
কলকাতা: নন্দীগ্রাম আসন ছেড়েছেন। তিনি এখন ভবানীপুরের বিধায়ক। সেই ভবানীপুর নিয়ে যে তাঁর একগুচ্ছ পরিকল্পনা রয়েছে, শনিবার বালিগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বললেন, “ভবানীপুরকে আরও উন্নত করতে হবে।” ওই অনুষ্ঠান থেকে তৃণমূলকেও নিশানা করলেন শুভেন্দু। আবার নাম না করে কটাক্ষ করলেন কলকাতা উত্তরের তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী?
এদিন সন্ধেয় বালিগঞ্জে মুখ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে ‘অভিনন্দন আপনো কো’ বলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে মুকুট পরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা আমাকে অনেক বড় দায়িত্ব দিয়েছেন। সেটা পালন করতে হবে। ২৪X৭ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। সবার দায়িত্ব নিতে হবে। তাই আসতে একটু দেরি হল।”
ভবানীপুরের বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। তাঁর জয় সুনিশ্চিত করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ভবানীপুরকে আরও উন্নত করতে হবে। কেউ গুন্ডামি করলে হোয়াটসঅ্যাপ করে দেবেন। পার্টির নাম যে বা যারা অপব্যবহার করবে, তাদের বার্তা দিয়ে দেবেন, এসব চলবে না। ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। ভবানীপুরে গুরুদ্বারাতে মাথা ঠোকা বাকি আছে। কয়েকদিনের মধ্যে সেটা করব। বাঙালি, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন সব ধর্মের মানুষ আমাকে জিতিয়েছেন ভবানীপুরে। শুধুমাত্র ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়া। মেয়রের (ফিরহাদ হাকিম) ওয়ার্ড ৮২ নম্বর থেকে লিড পেয়েছি।”
কলকাতাকে স্বচ্ছ রাখার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিটি অব জয়-কে ভাল রাখতে হবে। স্কুল, মন্দিরের আশপাশে মদের দোকান থাকবে না। ১৫ থেকে ১৯ তারিখ কলকাতাকে স্বচ্ছ রাখার অভিযান আমরা করব। ২০ তারিখ পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হবে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আমাদের এই মাটি দিয়েছেন। আগের সরকার পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে দাবি করতে থাকে। আমরা বিরোধিতা করি।”
যোগ দিবস নিয়ে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। ১৮০ দেশ এই দিনটাকে মেনে নিয়েছে। আগের সরকার এই দিনটাকে মানতেই চায়নি। ওইদিন ৭টা থেকে শুরু অনুষ্ঠান। সব রাস্তা, পার্ক, স্কুলের মাঠে যোগ উৎসব হবে। প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। সবাই আসুন। অংশ নিন।”
তৃণমূলকে নিশানা শুভেন্দুর-
তৃণমূলকে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, “কর্পোরেশন ওদের হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। সব চলে গিয়েছে। এত অহংকার। তুষ্টিকরণের রাজনীতি করেছে। পুলিশকে দিয়ে ভয়ঙ্কর রাজনীতি করেছে। বাংলার মানুষ জবাব দিয়েছে। এক মাসের ভেতর ওদের পার্টিই চলে গিয়েছে। মহাকুম্ভকে যারা মৃত্যুকুম্ভ বলে তাদের রাজত্ব বেশিদিন চলে না।” সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তিনি বলেন, “একজন উত্তর কলকাতার সিনিয়র নেতাও দিল্লিতে ঘুরছেন।”
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লক্ষ্য নিয়ে বার্তা শুভেন্দুর-
রাজ্যে ২ কোটির বেশি শিক্ষিত বেকার রয়েছেন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিকাশের কাজ হবে। রেলের যা কাজ বাকি ছিল, তা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এনওসি দেওয়া হয়েছে। চিংড়িহাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। সাগরে কাজ শুরু হয়েছে। এখানে প্রচুর ব্যবসায়ী, শিল্পপতিরা এসেছেন। তোলাবাজি, কাটমানি, সিন্ডিকেট রাজ আছে? পুলিশের টোল আছে? দাদাগিরি আছে? পশ্চিমবঙ্গের ছবি বদলাচ্ছে। হাত জোড় করে ওরা ক্ষমা চাইছে। পার্ক সার্কাসে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। আমি বলে দিই, এটা ওদের শেষ পাথর ছোড়া। পুলিশের উপর হামলা হলে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হলে সবচেয়ে বিপজ্জনক পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হবে। মোথাবাড়ি হবে না। ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জ হবে না। পুজো করার জন্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হবে না।”