
কলকাতা: ‘অনুপ্রেরণা’। গত ১৫ বছরে বাংলার প্রান্তে প্রান্তে নজরে পড়েছে এই শব্দ। বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী প্রতীক্ষালয় হোক কিংবা বিশ্রামাগার। যেখানেই যা কিছুর উদ্বোধন হয়েছে, উদ্বোধকের নাম যেমন রয়েছে, তেমনই তার উপরে লেখা রয়েছে ‘মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায়’। বর্তমানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার অনুপ্রেরণায় কী কী হয়েছে, তা নিয়ে অনেক সময়ই আলোচনার ঝড় উঠে চায়ের ঠেকে। এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় তৈরি সাধারণ শৌচাগারের সামনে উলঙ্গ শিশুদের শৌচকর্মের মূর্তি নিয়ে বিতর্ক বাধল। দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া শ্মশানের সামনে শিশুদের ওই মূর্তিগুলি নিয়ে আগের সরকারকে খোঁচা দিলেন বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া শ্মশানের সামনে রয়েছে একটি পাবলিক শৌচাগার। শৌচাগারের সামনে বড় ফলকলিপি রয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী (বর্তমানে প্রাক্তন) মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় তৈরি হয়েছে এই শৌচাগার। সেই শৌচাগারের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন বিদ্যুৎ, আবাসন, যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
বিতর্ক কী নিয়ে?
বিতর্ক তৈরি হয়েছে ওই শৌচাগারের সামনে থাকা চারটি শিশুর মূর্তি নিয়ে। শিশুদের শৌচকর্মের মূর্তি। উলঙ্গ শিশু মূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এভাবে শিশুদের মূর্তি কোন সংস্কৃতিকে তুলে ধরছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই নিয়ে পূর্বতন সরকারকে খোঁচা দিলেন বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “আমি ছবিটা দেখেছি। আসলে তৃণমূলের কাছ থেকে আর কী আশা করতে পারেন। তাদের রুচি বলে কি কোনও জিনিস রয়েছে? পাবলিক টয়লেটের মধ্যে বাচ্চাদের ওই ধরনের মূর্তি, খুবই নিম্নরুচির। কোটি টাকা খরচ করে পাবলিক টয়লেট করেছে। আমরা তো এবার অডিট করব, কোন খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে।”
এই নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যও। তিনি বলেন, “এটা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কুরুচির প্রমাণ”। মূর্তিগুলি এখন সাধারণ শৌচাগারের সামনে থেকে সরানো হয় কি না, সেটাই দেখার।