
কলকাতা: ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। তোলপাড় রাজনৈতিক আঙিনায়। পছন্দের বিরোধী দলনেতা বেছে নিতে পারেনি ‘মমতার তৃণমূল’। এরইমধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্য়েই হাইকোর্টে গিয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়। তাঁর হয়ে ব্যাটন ধরেছেন আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই কল্যাণই বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের বিরুদ্ধে করলেন জোরালো সওয়াল। তাঁর সাফ কথা, “যে কোন বিধায়ক যে কোনও দলে যেতে পারেন। তাতে সমস্যা নেই। মার্জ করতে পারেন। কিন্তু নতুন দলের কথা বলতে পারেন না। স্পিকার সব বিধায়ক, সাংসদদের গার্জেন। তিনি সবার স্বাধীনতা দেন সবাইকে। তবে নিয়ম বাইরে যেতে পারেন না।”
একইসঙ্গে ‘অচলাবস্থার’ দিকে ইঙ্গিত করে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কল্যাণ বলেন, “আর কয়েকদিনের মধ্যে বিধানসভায় অধিবেশন রয়েছে। আসন বরাদ্দ করা, ঘর বরাদ্দের বিষয় আছে। আমাদের লোকেরা লবিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।” একইসঙ্গে বিরোধী দলনেতা বাছাই নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, “৫৮ জন বিধায়ক বেছে নিয়েছে ঋতব্রতকে। বৈঠক করছেন। কিন্তু বিরোধী দলনেতা করা নিয়ে কোনও পাবলিক নোটিস দেওয়া হয়নি। এবার দেখুন অধ্যক্ষ ঠিক করছেন না ভুল।”
সূত্রের খবর, এদিন সওয়ালের মাঝেই বারবার রাজনৈতিক দল এবং পরিষদীয় দলের মধ্যে তফাতের দিকটাও তুলে ধরতে দেখা যায় কল্যাণকে। তাঁর সাফ কথা, রাজনৈতিক দল ঠিক করে সেই দলের বিরোধী দলনেতা কে হবেন। কখনই পরিষদীয় দল তা ঠিক করে না। এ ক্ষেত্রে আবার তিনি সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের কথাও মনে করান। সোজা কথায় কল্যাণের যুক্তি চেয়ারপার্সন হিসাবে মমতাই ঠিক করবেন কে হবে বিরোধী দলনেতা। যদিও আদালত আপাতত সব দিক খতিয়ে দেখতে চাইছে। সব সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণ রাও মঙ্গলবারের মধ্যে সব নিয়োগপত্র-সহ তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন অধ্যক্ষকে। সেদিনই হবে মামলার পরবর্তী শুনানি।