
কলকাতা: বাম আমলে বিধায়ক ছিলেন নিরাপদ সর্দার। সম্প্রতি সন্দেশখালি-কাণ্ডে শিরোনামে উঠে আসে তাঁর নাম। ১৭ দিন জেলও খাটতে হয় তাঁকে। পরে জামি পান। এবার লোকসভা ভোটে তিনি টিকিট পাওয়ায় অনেকেই বলেছেন, এটা নাকি জেল-যাত্রার পুরস্কার। বসিরহাটের প্রার্থী নিরাপদর আয় বলতে পেনশন। কত সম্পত্তি আছে তাঁর?
নিরাপদ সর্দারের দেওয়া হলফনামায় তাঁর আয়ের কোনও উল্লেখ নেই। গত পাঁচ অর্থবর্ষে তাঁর আয়ের ঘরে NIL (নিল) লেখা আছে। তাঁর স্ত্রী দীপা মুণ্ডা সর্দার গত দু আর্থিক বছরে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে দীপা সর্দারের আয় ৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩০০ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তিনি আয় করেছেন ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৮০ টাকা। সিপিএম প্রার্থীর হাতে আছে নগদ ১০০০ টাকা ও তাঁর স্ত্রীর হাতে আছে নগদ ৫০০০ টাকা।
হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিরাপদর একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আছে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। ক্রাউড ফান্ডিং থেকে এই টাকা তোলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন নিরাপদ। তাঁর অপর অ্যাকাউন্টে আছে ৩৩ হাজার ১৮২ টাকা। তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে আছে ২৭ হাজার টাকা।
মিউচুয়াল ফান্ড বা অন্য কোনও খাতে কোনও বিনিয়োগ করেননি নিরাপদ, তবে পোস্ট অফিসে কিছু স্কিমে বিনিয়োগ করেছেন তাঁর স্ত্রী দীপা। নিরাপদর নেই কোনও গাড়ি, কাছে নেই কোনও সোনা বা মূল্যবান ধাতু। তবে তাঁর স্ত্রীর কাছে আছে ৪ ভরি সোনা, যার মূল্য ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নিরাপদর মোট অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২ লক্ষ ৩ হাজার ১৮২ টাকা ও তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৪ লক্ষ ১ হাজার ৩৭৫ টাকা।
নিরাপদর কোনও জমি নেই। রয়েছে ৫০০ বর্গফুটের একটি বাড়ি। ২০১৫ সালে বাড়িটি কিনেছিলেন তিনি। সেই সময় বাড়ির দাম ছিল ১৪ লক্ষ টাকা। বর্তমানে ওই বাড়ির দাম ১৭ লক্ষ ৫ হাজার ৫০০ টাকা। নিরাপদ ও তাঁর স্ত্রী ১২ লক্ষ টাকার একটি ঋণ নিয়েছিলেন এলাহবাদ ব্যাঙ্ক থেকে, যার কিছুটা শোধ করা এখনও বাকি।
হলফনামায় নিজেকে সমাজকর্মী বলে উল্লেখ করেছেন নিরাপদ। তাঁর স্ত্রী একজন শিক্ষিকা। বিধায়ক হিসেবে পেনশন পান নিরাপদ আর তাঁর স্ত্রী পান বেতন।