CPIM Book Stall: একধাক্কায় রেকর্ড ছুঁল সিপিএম! যাদবপুর থেকে শিলিগুড়ি, লাখ লাখ টাকার বই বিক্রির হিসেব দিল দল

CPM book stall: যাদবপুরে বুক স্টল বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। কিন্তু তারপরও সিপিএমের বুক স্টল থেকে ঠিক টাকার বই বিক্রি হল জানেন? সিপিএমের দাবি, বুলডোজার ঠেকিয়ে বই বিক্রি বেড়েছে দ্বিগুণ। ১-২ দিনের মধ্যেই বই বিক্রির সংখ্যাটা স্পষ্ট হবে। তবে যাঁরা স্টল ভাঙতে এসেছিলেন, এই সংখ্যা তাঁদের গালে থাপ্পড় বলেই দাবি বাম নেতৃত্বের। 

CPIM Book Stall: একধাক্কায় রেকর্ড ছুঁল সিপিএম! যাদবপুর থেকে শিলিগুড়ি, লাখ লাখ টাকার বই বিক্রির হিসেব দিল দল
সিপিএমের বুক স্টল 'ভাঙচুর' (ফাইল ছবি)Image Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Oct 22, 2026 | 2:51 PM

কৌশিক ঘোষ, মহাদেব কুণ্ডু, প্রসেনজিৎ চৌধুরী, বিশ্বরূপ: পুজো শুরু ক’দিন আগে থেকে শুরু করে পুজোর দিনগুলোতেও, এমনকী সপ্তমীর রাতে যখন চোরবাগানে বিপর্যয় ঘটে গিয়েছে, তখনও একাধিক জায়গায় সিপিএমের বুকস্টল ভাঙার অভিযোগ ওঠে। যাদবপুরে বুক স্টল বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু তারপরও সিপিএমের বুক স্টল থেকে ঠিক কত টাকার বই বিক্রি হল জানেন? সিপিএমের দাবি, বুলডোজার ঠেকিয়ে এবার বই বিক্রি বেড়েছে দ্বিগুণ। ১-২ দিনের মধ্যেই বই বিক্রির সংখ্যাটা স্পষ্ট হবে। তবে যাঁরা স্টল ভাঙতে এসেছিলেন, এই সংখ্যা তাঁদের ‘গালে থাপ্পড়’ বলেই দাবি বাম নেতৃত্বের।

হাওড়ার এক সিপিএম নেতা দাবি করেছে, পুজোয় হাওড়া জেলায় বামেদের বুক স্টল থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার বেশি বই বিক্রি হয়েছে।

মুর্শিদাবাদ জেলায় ১৯ টি বইয়ের স্টল হয়েছিল। ৪,৭৪,৬৪১ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। যা গতবারের চাইতে প্রায় ১ লক্ষ টাকা বেশি, দাবি স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্বের।

শান্তিপুরের ফুলিয়ায় সিপিএম স্টল ভাঙার পর এ বছরে বই বিক্রি হয়েছে ১৮ হাজার ৯৭২ টাকার। গত বছর বই বিক্রি হয়েছিল ৯ হাজার ৪৪৭ টাকার।

যাদবপুরে রেকর্ড টাকার বই বিক্রি হয়েছে বলে দাবি বামেদের।

পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও একই ছবি। উত্তর দিনাজপুরের ৭ স্টলে ৭৭ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছে বলে দাবি বামেদের।

বামেদের দাবি, শিলিগুড়িতে রেকর্ড বই বিক্রি হয়েছে। গতবার ১৫ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। এবার তা বেড়ে ৬৮ হাজার। মূল স্টলে ৬৮ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছে।  এছারা মহকুমা জুড়ে থাকা বাকি ১৯টি বুক স্টলেও বিক্রি বেড়েছে বলে দাবি সিপিএম নেতৃত্বের। তবে এখানে এখনও সম্পূর্ণ হিসাব মেলেনি।

সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, “যে সংখ্যাটা আসবে, সেটা যারা স্টল ভাঙতে এসেছিল, তাদের গালে থাপ্পড়। আরও ২ দিন লাগবে হিসাব করতে। কিন্তু এটা শুধু টাকার অঙ্কের ব্যাপার না। কারা বই বিক্রি করছেন বনাম কারা আদর্শ বিক্রি করছেন, তার লড়াই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে।”

তবে কলতানের এটাও সংযোজন, “এই বিষয়টা টাকার অঙ্ক দিয়ে বিচার্য হবে না। এবছর বহু মানুষ আমাদের বুক স্টলের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে। যেখানে হামলা হয়েছে, তার উল্টোদিকের বাড়ির লোক বলেছেন, আমার একতলার ঘর ফাঁকা রয়েছে, এখানে বুক স্টল করুন। এই নতুন বন্ধু জুড়তে পেরেছি, এটাই আমাদের প্রাপ্তি।”

বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী অবশ্য বলেন, “বুলডোজার কিংবা বইয়ের ওপর আঘাত, কোনওভাবেই কাম্য নয়। কিন্তু ওদেরও এটা বুঝতে হবে, দেশবিরোধী স্লোগান, হিন্দুধর্মবিরোধী কথাবার্তা কোথাও মানুষকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। কিন্তু এটাও বারবার বলছি বইয়ের ওপর আক্রমণ মেনে নেওয়া যায়নি।”

বইয়ের ওপর যে আঘাত মেনে নেওয়া যায় না, সেকথা আগেই বলেছিলেন স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর মতে, বামেদের বই স্টলগুলোতে যে হামলা হচ্ছে, তা অন্যায়। তিনি বলেছিলেন, “কে অথরিটি দিয়েছে? বামেদের সঙ্গে আমার একটা নৈতিক বিবাদ রয়েছে। তার জন্য বই বিক্রিতে বাধা, বই ডিসপ্লে করতে দেব না! এটা হতে পারে না। কারা করছে জানি না। তারা কারা? আমি কোনও বিতর্কের মধ্যে যাচ্ছি না। আমি বললাম, এটা নিন্দনীয়, এটা যেন আর কোনওদিন না হয়।”

RSS নেতা জিষ্ণু বসু বলেন, “যাঁরা ক্ষমতায় দম্ভে বুক স্টল করতে দিচ্ছেন না, তাঁরা ভারতবর্ষকেও বোঝেননি, তাঁরা হিন্দু নাম নেওয়ারও যোগ্য নন। এটা হিন্দু ভাবনার বিরুদ্ধে। বিরোধী মতকে প্রকাশ না করতে দেওয়া, এটা অন্যায়।”

পুজোয় বুক স্টল বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য বলেছিলেন, “বইয়ের সঙ্গে সিপিএমের রাজনীতি গোলানো হচ্ছে, আমরা বইপ্রেমী। বইবিরোধী নই। পুষ্পাঞ্জলি, দেবেন না, অষ্টমীর অঞ্জলি দেবেন না, সিঁদুর খেলবেন না… আপনার সনাতনী হিন্দুত্বের বিরোধিতা করবেন, তারপর দুর্গাপুজোর সামনে গিয়ে স্টল দেবেন! কর্পোরেশন বা সরকার যা করেছে, হাইকোর্টের নির্দেশ করেছে। আমি বলব কাউকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার দরকার নেই।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us