Heavy Rain Alert in Bengal: নিম্নচাপের বাঁকেই দুশ্চিন্তা দিঘা থেকে দার্জিলিংয়ে

Heavy Rain Alert in Bengal: বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপের এমন বাঁক নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়, কম-বেশি প্রতিবারই ঘটে। ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় পিলিন ওড়িশা হয়ে ঢুকলেও, পরে উত্তরপ্রদেশের দিকে সরে যায়। ঝাড়খণ্ডে প্রবল বৃষ্টি, ডিভিসির ছাড়া জলে ডুবে যায় দক্ষিণবঙ্গের একাংশ। এবারও ঝাড়খণ্ডে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস।

Heavy Rain Alert in Bengal: নিম্নচাপের বাঁকেই দুশ্চিন্তা দিঘা থেকে দার্জিলিংয়ে
কোথায় রয়েছে নিম্নচাপ?Image Credit source: IMD

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Sep 23, 2026 | 10:31 AM

কলকাতা: ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নেই। অতি গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে, তারও গন্তব্য অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তনম উপকূল। বাংলা থেকে আকাশপথে দূরত্ব ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি। এর পরও পুজো-মুখী বাংলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। শুধু দক্ষিণবঙ্গে নয়, উত্তরবঙ্গেও। কেন? নেপথ্যে নিম্নচাপের বাঁক।

মৌসম ভবন জানিয়েছে, আজ রাতে বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যে, অন্ধ্রের কলিঙ্গপত্তনম হয়ে স্থলভাগে ঢুকবে অতি গভীর নিম্নচাপ। নিম্নচাপ সোজা এগোলে ছত্তীসগঢ় হয়ে মহারাষ্ট্রে সরে যেত। নিম্নচাপের উপস্থিতি বাংলা তেমন টেরই পেত না। কিন্তু নিম্নচাপের মতিগতি অন্যরকম। স্থলভাগে ঢোকার পর আর পশ্চিম অভিমুখে না এগিয়ে উত্তরপশ্চিম অভিমুখে এগোবে নিম্নচাপ। অর্থাৎ, ডান-হাতি বাঁক নিয়ে ঢুকে আসবে ওড়িশার অন্দরে। এর ফলে কী হবে? নিম্নচাপ সরাসরি বাংলায় না এলেও, আগামী ৩ দিনে বাংলার সঙ্গে দূরত্ব কমবে নিম্নচাপের। এবং বৃষ্টি নামার মতো অনুকূল বায়ুপ্রবাহও থাকবে রাজ্য জুড়ে। এর ইঙ্গিত অবশ্য গত বৃহস্পতিবারের আউটলুকেই দিয়েছিল মৌসম ভবন। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে গোটা রাজ্যেই স্বাভাবিকের বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া দফতর। বৃহস্পতিবার পূর্ব, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। অতি ভারী বৃষ্টির অর্থ একদিনে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির আশঙ্কা। শুক্রবার অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দার্জিলিং, কালিম্পং, সিকিমেও।

কেন বাঁক নেবে নিম্নচাপ?

যাবতীয় কেরামতি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার। এই মুহূর্তে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ক্রমশ পূর্বে সরছে। সেই ঝঞ্ঝার অক্ষরেখাই স্থলভাগে ঢোকার পর নিম্নচাপের গতিবিধি ঠিক করবে। শুধু তাই-ই নয়, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও নিম্নচাপের জুটির জন্যই হিমালয়ের পাদদেশে প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা। উত্তরাখণ্ড, নেপাল, উত্তরবঙ্গ, সিকিমে পশ্চিমী বাতাস ও পুবালি বাতাসের ‘সংঘর্ষে’ ঝেঁপে বৃষ্টির আশঙ্কা। বেশ কিছু অঞ্চল দুর্যোগের মুখেও পড়ে যেতে পারে।

বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপের এমন বাঁক নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়, কম-বেশি প্রতিবারই ঘটে। ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় পিলিন ওড়িশা হয়ে ঢুকলেও, পরে উত্তরপ্রদেশের দিকে সরে যায়। ঝাড়খণ্ডে প্রবল বৃষ্টি, ডিভিসির ছাড়া জলে ডুবে যায় দক্ষিণবঙ্গের একাংশ। এবারও ঝাড়খণ্ডে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। ২০১৪ সালে বিশাখাপত্তনম হয়ে স্থলভাগে ঢোকে ঘূর্ণিঝড় হুদহুদ। অন্ধ্র বা ওড়িশার চেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছিল নেপালের তুষারধসে। নেপথ্যে ঘূর্ণিঝড়ের অবশিষ্টাংশের সঙ্গে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার ‘সাক্ষাৎ’! ২০১৮ সালে পুজোর সময় ওড়িশায় আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় তিতলি। পরে সেই ঘূর্ণিঝড়ের নিম্নচাপই বাঁক নিয়ে বাংলার ভিতরে ঢুকে আসে। উৎসবের মধ্যে টানা বৃষ্টি!

এবার পুজো আসতে এখনও দেরি। তবে পুজোর প্রস্তুতিতে বাগড়া দিয়ে চলেছে নিম্নচাপ। তা সে যতই অন্ধ্রপ্রদেশ হয়ে স্থলভাগে ঢুকুক! নিম্নচাপের বাঁকেই দুশ্চিন্তা দিঘা থেকে দার্জিলিংয়ে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us