
কলকাতা: বদলের বাংলায় পুজোর নিয়মেও বেশ কিছু বদল আনল রাজ্য সরকার। পুজো কমিটিগুলোর সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এবার থিম পুজোতেও বেশ কিছু শর্ত থাকবে। তাঁর কথায়, “এমন কিছু করবেন না, যাতে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগে।” সব থেকে বড় প্রশ্ন ছিল, এবারে পুজো কমিটিগুলোকে কত টাকা করে অনুদান দেবে রাজ্য সরকার?
পূর্ববর্তী মুখ্যমন্ত্রীর অনুদান বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, গতবারে ৮৫, ৯০, ৯৫ হাজার দিয়ে একেবার ১১০ করা হচ্ছিল। এভাবে মাছের বাজারের মতো দাম হাঁকানো ঠিক ছিল না। এতে অভ্যাসে বদল এসেছে, অথচ ভোটে কোনও লাভ হয়নি। তাঁর কথায়, “সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রে গত মুখ্যমন্ত্রী যা করছিলেন, যা রাজ্যের জন্য ভালো নয়। তিনি এভাবে বলছিলেন, গতবারে কত দিয়েছিলাম, ৮৫? ৯০? ৯৫? ১০০? নাও এবার ১১০! সরকারের যা দায়িত্ব, সেটাই সরকার পালন করবে। অভ্যাস খারাপ হয়ে গিয়েছে। ২৫ হাজার দিয়ে অনুদান শুরু হয়েছিল, ১ লক্ষ ১০ গিয়েছে! ভোটে তো কোনও লাভ হয়নি। এতে ভোটে লাভ হয় না।”
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, গ্রামীণ এলাকার অনেকেই সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে গিয়েছে। মোটামুটি একটা ভালো পুজো শহরে করতে গেলে ১০ লক্ষের নীচে হয় না। গ্রামেও ৪-৫ লক্ষের কমে হয় না। পুজো কমটিগুলোকে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, “আপনারা প্রচুর বিজ্ঞাপন নিন। কিন্তু যেহেতু আপনারা একটা আশা-পরম্পরা পেয়ে এসেছেন। আমরা আগেই বলে এসেছিলাম, ছোট বাজেটের পুজো কমিটিগুলোকে অনুদান দেব, বড় বাজেটের পুজোগুলোকে দেব না। আমি মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চাই না। আমি বড় বাজেটের পুজোগুলোকে বলতে চাই, সরকারের অর্থনৈতিক সাহায্য নেবেন না। যাঁরা নেবেন না, তাঁদের বিশেষ ধন্যবাদ। যাঁদের এই টাকা না হলে পুজো করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য সরকার ১ লক্ষ টাকা করে দেবে।”
থানায় আবেদন করতে হবে। সেখান থেকে স্ক্রুটিনি করে তালিকা এসপি-সিপি-র মাধ্যমে ডিজিপি-র মাধ্যমে মুখ্যসচিবের কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অর্থদফতরে পাঠানো হবে।