
কলকাতা ও নয়াদিল্লি: এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও যোগ্য ভোটার বাদ যাবে না। বারবার এই বার্তা দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়াই যে এসআইআর-র লক্ষ্য, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে। যোগ্য ভোটারদের নাম যাতে ভোটার তালিকায় থাকে, তার জন্য পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে স্পেশাল শিবির শুরু করেছে কমিশন। এই নিয়ে এবার বার্তা দিল পশ্চিমবঙ্গ-সহ রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর এক বার্তায় জানিয়েছে, ‘ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২৪ জন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) ভোটার তালিকায় যাতে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে প্রচার অভিযান শুরু করেছেন। এই উদ্দেশ্যে রাজ্যজুড়ে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে।’
রাজ্যের CEO দফতর জানিয়েছে, ‘কোনও ব্যক্তির কোনও অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার (BLO), অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO), ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) অথবা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (DEO) সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। ভোটার তালিকা থেকে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যাতে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে আমরা দায়বদ্ধ।’
ঝাড়খণ্ড-
ঝাড়খণ্ডের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর জানিয়েছে, ‘ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের সমস্ত জেলা নির্বাচনী আধিকারিক নিজ নিজ জেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বিশেষ শিবিরের মাধ্যমে প্রচার অভিযান চালাচ্ছেন। উদ্দেশ্য, প্রত্যেক যোগ্য ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা। যে কোনও যোগ্য ভারতীয় নাগরিকের ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করা, শুনানি প্রক্রিয়া অথবা ভোটার তালিকায় কোনও সংশোধনের ক্ষেত্রে সাহায্যের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’ তাদের স্পষ্ট বার্তা, ‘আমাদের লক্ষ্য, কোনও যোগ্য ভারতীয় নাগরিকের নাম যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে।’
বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রসঙ্গে দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বার্তা, ‘দিল্লির ভোটার তালিকায় প্রায় ৩৩ লক্ষ নামের ক্ষেত্রে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (তথ্যগত অসংগতি) অথবা ‘আন-ম্যাপড’ (পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা যায়নি) সংক্রান্ত সমস্যা ছিল। এই সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য একটি সক্রিয় প্রচার অভিযান শুরু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩৩ লক্ষের মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। কোনও ব্যক্তির কোনও অভিযোগ থাকলে তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’
সিকিম-
সিকিমের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের তরফে বলা হয়েছে, ‘ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সিকিমের ৬ জন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ভোটার তালিকা থেকে যাতে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় প্রচার অভিযান শুরু করেছেন। এই উদ্দেশ্যে রাজ্যের ৬২৩টি বুথে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। কোনও ব্যক্তির কোনও অভিযোগ থাকলে তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের জানাতে পারেন। ভোটার তালিকা থেকে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যাতে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে আমরা দায়বদ্ধ।’
অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল-
পুদুচেরি, গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, বিহার ও মিজোরামেও এই সংক্রান্ত প্রচার অভিযান চলছে। এই সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিস থেকেও এই নিয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যাতে বাদ না পড়ে, তা সুনিশ্চিত করাই লক্ষ্য।