
কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন মামলার এদিন শুনানি ছিল কলকাতা হাইকোর্টে। মামলা উঠেছিল বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে। সেখানে মামলার শুনানি চলাকালীন ইডির তরফে দাবি করা হয়, স্বাধীন ভারতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো আচরণ কেউ করেননি। কেন তারা এমন মনে করছে, এদিন সেই ব্যাখ্যাও দিলেন ইডির আইনজীবী। আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার যুক্তি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশেই যাবতীয় ব্যবসা চলত। শুধু তাই নয়, অর্পিতা মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক ব্যক্তিকে এই পার্থ চট্টোপাধ্যায় দুর্নীতি সংগঠিত করতে ব্যবহার করেছেন বলেও দাবি ইডির।
ইডির দাবি, পার্থর নির্দেশ মতোই কাজ করতেন অর্পিতা। এদিকে অর্পিতা অতীতে দাবি করেছেন, যাবতীয় দুর্নীতির কিংপিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ই। তবে অর্পিতাও যে দুর্নীতির সঙ্গে সমানভাবে যুক্ত, সে কথাই এদিন আদালতে তুলে ধরার চেষ্টা করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী। ইডির তরফে এদিন বলা হয়, ‘অর্পিতা মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন যে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এই দুর্নীতির কিংপিন। আমরা বলছি, অর্পিতা মুখোপাধ্যায় প্রকৃতপক্ষে এই দুর্নীতির রানি।’ ইডির আইনজীবীর বক্তব্য, ‘স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৫৪ কোটি টাকার জন্য দু’জন নিজেদের মধ্যে মারামারি করছে এবং দু’জনেই দাবি করছে, এটা তাঁর নয়, অপর জনের।’
এদিন মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানতে চান, কতজন সাক্ষী রয়েছেন এই মামলায়। ইডি জবাবে জানায় পাঁচটি মামলায় ১৬৫ জন সাক্ষী রয়েছে। সেই শুনে বিচারপতি বলেন, ‘তাহলে অদূর ভবিষ্যতে নিম্ন আদালতে বিচারপর্ব শেষ হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই।’ তখন ইডির তরফে আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি বলেন, ‘আমরা বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছি। হাইকোর্ট নির্দেশ দিলে প্রত্যেকদিন নিম্ন আদালতে শুনানি করতে প্রস্তুত।’ আগামী ৬ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।