
কলকাতা: এর আগে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এবার পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির নজরে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের পরিবার। পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার তলব করা হল মদন মিত্রের স্ত্রী ও দুই পুত্রকে। আগামী ২২ ও ২৩ জুলাই সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছে তাঁদের।
এর আগে কামারহাটি পৌরসভায় অবৈধ নিয়োগ মামলায় নাম জড়ায় মদনের। জুন মাসেই তাঁর একাধিক বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। ভবানীপুরের বাড়ি ছাড়াও দক্ষিণেশ্বর-সহ একাধিক বাড়িতে হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি সূত্রের খবর, পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে বেশ কিছু রহস্যময় আর্থিক লেনদেনে কামারহাটির বিধায়কের স্ত্রী ও দুই পুত্রের নাম সামনে এসেছে। সেজন্যই মদনের স্ত্রী ও দুই পুত্রকে জিজ্ঞসাবাদ করতে চাইছে ইডি। মদন মিত্রের পুত্রবধূদের অবশ্য ইডি তলব করেনি। প্রসঙ্গত, কামারহাটি পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হলেন মদনের কনিষ্ঠ পুত্রবধূ মেঘনা মিত্র।
পুরনিয়োগ মামলায় এর আগে গত বছরের অক্টোবরে সিবিআই-ও মদনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল। নারদ মামলাতেও অভিযুক্ত মদন। কিন্তু, এবার তাঁর পরিবারকে ইডি তলব করায়, মদনের উপর চাপ বাড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মদনের স্ত্রী ও ২ পুত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি কোন তথ্য পায়, সেটাই এখন দেখার।
তৃণমূলের কর্মিসভায় চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন মদন-
২০১১ সালে প্রথমবার কামারহাটি থেকে জেতেন মদন। ২০১৬ সালে অবশ্য হেরে যান। আবার ২০২১ এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে জয়ী হন তিনি। ফলে কামারহাটির সঙ্গে মদনের সম্পর্ক অনেক পুরনো। সেই কামারহাটিতে তৃণমূল কর্মীদের চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন মদন। গত বছরের জুনে কামারহাটিতে তৃণমূলের এক কর্মিসভায় মদন বলেছিলেন, “আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, এখানে যাঁরা আছেন, তাঁরা অন্তত ৪০ শতাংশ তৃণমূলের দেওয়া চাকরি পেয়েছেন।” ওই কর্মিসভায় উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের দিকে আঙুল দেখিয়ে একথা বলেন মদন। জোর গলায় বলেন, “আমি মদন মিত্র একথা বলছি।” এরপরই তিনি বলেন, “এবার যাঁরা চাকরি পাননি, তাঁদের মুখটার দিকে একবার চেয়ে দেখুন তো, তাঁরা কী ভাবছেন।”