জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলল রামকৃষ্ণ মিশন! TV9-এ এক্সক্লুসিভ
Swami Suvirananda of Ramkrishna Mission: রবিবার গভীর রাতে শিলিগুড়ির সেবক রোডের পাশে, শালুগাড়ায় অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের ‘সেবক হাউস’-এ হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। হামলাকারীরা এখনও অধরা। এরই মধ্যে রামকৃষ্ণ মিশনের বিরুদ্ধে, দেড় একর জমি জবরদখল করে রাখার পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। কী বলছেন রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের সাধারণ সম্পাদক, স্বামী সুবীরানন্দ?

কলকাতা: ভোট বাংলায় চর্চায় সাধু-সন্ন্যাসীরা। ইতিমধ্যেই সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রধান কার্তিক মহারাজের নাম। এবার চর্চার কেন্দ্রে রামকৃষ্ণ মিশন। রবিবার গভীর রাতে শিলিগুড়ির সেবক রোডের পাশে, শালুগাড়ায় অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের ‘সেবক হাউস’-এ হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। হামলাকারীরা এখনও অধরা। এরই মধ্যে রামকৃষ্ণ মিশনের বিরুদ্ধে, দেড় একর জমি জবরদখল করে রাখার পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২১ মে), এই নিয়ে ভক্তিনগর থানায় একটি মামলাও নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে কী বলছে রামকৃষ্ণ মিশন?
শিলিগুড়ির জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান প্রশাসনই করবে বলে আশাবাদী, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের সাধারণ সম্পাদক, স্বামী সুবীরানন্দ। TV9 বাংলাকে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “শিলিগুড়িতে জমিকে কেন্দ্র করে কিছু সমস্যা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আমি আশা করি স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। ওই জমি, ওই সম্পত্তি সবই মানব কল্যাণে নিবেদিত। কোনও ব্রহ্মচারীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।”
স্বামী সুবীরানন্দ আরও জানিয়েছেন, রাজনীতির সঙ্গে রামকৃষ্ণ মিশনের কোনও যোগই নেই। রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসী-ব্রহ্মচারীরা ভোট দেন না, ভক্তদের রাজনৈতিক চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টাও করেন না। স্বামী সুবীরানন্দ বলেছেন, “আমরা (রামকৃষ্ণ মিশন) একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। আমাদের যাঁরা সন্ন্যাসী-ব্রহ্মচারী, তাঁরা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন না। এমনকি, তাঁদের যে ভোটাধিকার আছে, তাঁরা তাও প্রয়োগ করেন না। এই মন্ত্র স্বামীজি মহারাজ আমাদের দিয়ে গিয়েছেন। সেটি আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করি। আমরা আমাদের ভক্তদের রাজনৈতিক চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করি না। ভোটদানের বিষয়ে ভক্তরা স্বতন্ত্র।”
জানা গিয়েছে, শালুগাড়ায় অবস্থিত সেবক হাউসের আসল মালিক ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশনের এক ভক্ত। তিনিই মিশন কর্তৃপক্ষকে ওই সম্পত্তি দান করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই ওই ভবনে বসবাস করেন রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীরা। তবে, প্রদীপ রায় নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির অভিযোগ, ওই জায়গায় দেড় একর জমি জবরদখলের চেষ্টা করছে রামকৃষ্ণ মিশন। তিনিই রামকৃষ্ণ মিশনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছেন। আবার, রবিবার রাতে হামলার বিষয়ে মিশনের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ জানানো হয়েছে, তাতে মূল অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছে এই প্রদীপ রায়ের নামই।
