
কলকাতা: যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ডে শেষ পর্যন্ত বড় পদক্ষেপ পুলিশের। আয়োজক শতদ্রু দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) রুজু করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। উচ্ছ্বসিত শতদ্রু। সোশ্যাল মিডিয়ায় এফআইআরের কপি শেয়ার করে লিখলেন ‘সত্যের জয়’। একইসঙ্গে এই আইনি পদক্ষেপের জন্য রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। শতদ্রু দত্তের আমন্ত্রণে ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ এবং রড্রিগো দি’পল কলকাতায় এসেছিলেন। যুবভারতীতে ১৩ ডিসেম্বরের এই হাই-ভোল্টেজ অনুষ্ঠান ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। পারদ এতটাই চড়েছিল যে ১৮ হাজার টাকার টিকিট কালোবাজারির কারণে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় বলে জানা যায়। কিন্তু চরম অব্যবস্থাপনার কারণে কলকাতার সেই অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত সুপারফ্লপ হয়। গ্যালারি ভেঙে শয়ে শয়ে দর্শক মাঠে ঢুকে পড়ে। সেদিন কলকাতার চরম বিশৃঙ্খলার ছবি দেখেছিল গোটা বিশ্ব। দেশের বাকি তিন শহর মুম্বই, দিল্লি ও হায়দরাবাদে অনুষ্ঠান সফল হলেও কলকাতায় এই পরিণতির জেরে আয়োজক শতদ্রু দত্তকে সে সময় জেলেও যেতে হয়েছিল।
এবার রাজ্যে পালাবদলের পরেই মুখ খুলেছেন শতদ্রু। বেশ কয়েকজিন ধরেই সংবাদমাধ্যমে একের পর বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারও দিয়ে চলেছেন। তাঁর সাফ কথা, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস তাঁর কাছে জোরপূর্বক বিপুল সংখ্যক টিকিট ও পাসের দাবি করেছিলেন। শতদ্রুর দাবি, টিকিট দিতে আপত্তি জানালে মন্ত্রী রীতিনতো হুঙ্কারের সুরে নাকি বলেছিলেন, “এই মাঠ তো আমার, আমি তোর থেকে পারমিশন নেব কেন?” শতদ্রুর আরও অভিযোগ, মন্ত্রী জোর করে মেসির কাঁধে-বুকে হাত দিয়ে ছবি তুলেছেন। তিনিই পরিবারের লোকেদের মাঠে ডেকে নিয়ে গিয়ে অশোভন আচরণ করেছেন। পুলিশকে আগেভাগে বিশৃঙ্খলার ব্যাপারে সতর্ক করলেও পুলিশ সেই সময় কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ শতদ্রুর। উল্টো প্রভাবশালী না হওয়ায় শতদ্রুকেই ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছিল।
এবার রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই এ ঘটনায় একের পর এক নতুন মোড়। লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে প্রতারিত হওয়া দর্শকদের ক্ষোভের কথা মাথায় রেখে বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক আগেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। শতদ্রু দত্ত যদিও আগেই জানিয়েছেন, কলকাতার অনুষ্ঠান যারা ভন্ডুল করেছিল, তাদের সবার বিরুদ্ধে ভিডিয়ো প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে। তিনি আইনি পথে এই লড়াই শেষ পর্যন্ত লড়বেন। অবশেষে রুজু হল এফআইআর। তাহলে কী এবার অরূপের গ্রেফতারি সময়ের অপেক্ষা? প্রশ্ন ঘুরছে।