
কলকাতা: তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে রয়েছেন। গতকাল বিধানসভার অধিবেশনেই কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। বিধানসভার অন্দরে বসেছিলেন ঋতব্রতদের সঙ্গে। এবার তৃণমূলের ঋতব্রত শিবিরের নতুন বিধায়কদের প্রশিক্ষকের ভূমিকায় দেখা গেল কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমকে। শুক্রবার বিধানসভার অধিবেশন শেষে বিরোধী দলনেতার ঘরে নতুন বিধায়কদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন ঋতব্রত। সেখানেই প্রশিক্ষকের ভূমিকায় দেখা গেল ফিরহাদকে।
বিধানসভায় তৃণমূল এখন দুই শিবিরে বিভক্ত। ঋতব্রত, সন্দীপন সাহাদের ‘নব তৃণমূল ব্লকে’ অনেকেই প্রথমবার বিধায়ক হয়েছেন। বিধানসভার নিয়ম কানুন, বক্তৃতা করার ধরন, দৃষ্টি আকর্ষণ প্রস্তাব কীভাবে আনতে হয়, প্রশ্নোত্তর পর্ব কীভাবে অংশ নিতে হয়, উল্লেখ পর্বে কী কী বিষয় উল্লেখ করা যায়, এই সব-সহ নানা খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে এদিন প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বিধানসভায় তাঁর ঘরে এদিন নতুন বিধায়কদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন। ঘণ্টা দুয়েকের বেশি প্রশিক্ষণ শিবির চলে। পরে ঋতব্রত জানান, নতুন বিধায়কদের এই প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন ফিরহাদ। প্রথমবার বিধায়ক হলেও প্রশিক্ষকের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে ঋতব্রতকেও। রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এদিন কসবার বিধায়ক জাভেদ খানকেও প্রশিক্ষকের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে।
ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূল যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে, তখন গত কয়েকদিন ধরে ফিরহাদ অবস্থান নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল। রাজনীতির ময়দানে ববি নামে বেশি পরিচিত কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ। সেই ববি হাকিম গত ৮ জুন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে গিয়ে ঋতব্রতর সঙ্গে ঘণ্টাখানেকের বৈঠক করেছিলেন। তাঁকে ঋতব্রতর ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন তৃণমূলের আর এক বিক্ষুব্ধ বিধায়ক সন্দীপন সাহা। বৈঠক থেকে বেরিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি ফিরহাদ। কয়েকদিন আগে ফের বিধানসভায় ঋতব্রতর ঘরে বৈঠকে দেখা যায় কলকাতা বন্দরের বিধায়ককে। ববি হাকিম তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন কি না জানতে চাওয়ায় ঋতব্রত বলেছিলেন, কোনও ব্যক্তিকে নিয়ে মন্তব্য করবেন না। তবে গতকাল বিধানসভায় ঋতব্রত-সহ তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়করা যেখানে বসেছিলেন, সেখানে বসতে দেখা যায় ফিরহাদকে। স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দেন, তিনি বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে রয়েছেন। আর এদিন ঋতব্রত শিবিরের নতুন বিধায়কদের প্রশিক্ষণ দিলেন ববি।
কী বললেন কুণাল?
ফিরহাদ হাকিমের অবস্থান নিয়ে এদিন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “ববিদা রাজনীতিতে অনেক সিনিয়র। তাঁকে নিয়ে কিছু বলব না। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে অনেক স্নেহ করেন। তাঁকে অনেক দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এখন বিধানসভায় ঢুকেই ববিদা দেখি বাঁ দিকে চলে যাচ্ছেন।”