
কলকাতা: তৃণমূল ক্ষমতা হারিয়েছে। ১৫ বছর পর মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার থেকে সরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকার বদলের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রের মাথায় বসে থাকা অনেকে সরে গিয়েছেন। কিন্তু, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের একাধিক সদস্য এখনও একাধিক চেয়ার ‘আঁকড়ে’ রয়েছেন। মমতার দুই ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় খেলাধূলার জগতে এখনও একাধিক পদে রয়েছেন। কোন কোন চেয়ার ‘আঁকড়ে’ রয়েছেন তাঁরা?
এখনও কোন কোন পদে রয়েছেন স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়?
তৃণমূলের আমলে খেলাধূলার জগতে বিভিন্ন সংগঠনে কার্যত ছড়ি ঘোরাতেন স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাবুন। তিনি কোন কোন সংগঠনের পদে ছিলেন, সেদিকে নজর দিলেই তা স্পষ্ট বোঝা যায়। এখনও সাতটি পদে রয়েছেন তিনি। বেঙ্গল স্টেট টেবল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদে রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সচিব স্বপন। আবার তিনি পশ্চিমবঙ্গ হ্যান্ডবল সংস্থার সভাপতি। অ্যামেচার কবাডির সচিবও স্বপন। বডি বিল্ডিং অ্যান্ড ফিজিকস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিও মমতার এই ভাই। ক্যালকাটা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তিনি। আর সাত নম্বর হল ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের মুখ্য উপদেষ্টা।
কতগুলি পদে রয়েছেন অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়?
একাধিক পদে রয়েছেন মমতার আর এক ভাই অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বপনের মতো সাতটি পদে নেই তিনি। তবে তিনটি পদ অলংকৃত করে রয়েছেন। অজিত আইএফএ-র সভাপতি। আবার বেঙ্গল অলিম্পিক সংস্থার মুখ্য উপদেষ্টা তিনি। আর তিন নম্বর হল পশ্চিমবঙ্গ স্টেট ওয়েটলিফটিং অ্যাসোসিয়েশনের চিফ প্যাট্রন।
মমতার এই দুই ভাই ছাড়াও খেলাধূলার জগতে তৃণমূলের একাধিক নেতা পদে রয়েছেন। ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু হকি বেঙ্গলের সভাপতি পদে রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ জুডো সংস্থার সভাপতিও তিনি। আর এক প্রাক্তন বিধায়ক দেবাশিস কুমার বেঙ্গল অ্যামেচার সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। রাজ্যের আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ভলিবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস আবার আইএফএ-র ভাইস প্রেসিডেন্ট।
১৫ বছর রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল। বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করেছে, তৃণমূলের আমলে রাজ্যের সাধারণ মানুষের উন্নতি হয়নি। কিন্তু, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার আর তৃণমূল নেতাদের উন্নতি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন বিজেপি নেতারা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের লোকজন ও তৃণমূল নেতারা যে খেলাধূলার জগতকে কব্জায় রেখেছিলেন, সেটাই সামনে আসছে এখন। নতুন সরকার কী পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার।