
ছোট থেকেই বেড়ে ওঠা গ্রামে। বাড়ি মুর্শিদাবাদের প্রত্যন্ত গ্রাম হাড়িভাঙ্গা প্রসাদপুরে। গ্রামের ছেলে গৌরীর মাটির সঙ্গে টান বরাবরই। এলাকায় পরিচিত সকলের প্রিয় মাস্টারমশাই হিসাবে। গৃহশিক্ষক হিসাবে পড়াচ্ছেন অনেকদিন থেকেই। সেই শিক্ষকই আজ হয়ে গিয়েছেন রাজ্যে মন্ত্রী। তিনি গৌরীশঙ্কর ঘোষ। শুভেন্দু-সরকারের মন্ত্রিসভায় পেয়েছেন গুরু দায়িত্ব।
বিজেপির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবর সঙ্ঘেরও হাত ধরেছেন অনেকদিন। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ বরাবরই আরএসএসের মতাদর্শেই অনুপ্রাণিত। তবে বিজেপিতে যাত্রা শুরুর পর থেকে বরাবরই তৃণমূল স্তরে থেকেই করেছেন কাজ। একেবারে প্রথম দিন থেকেই বিজেপির একজন সাধারণ বুথ স্তরের কার্যকর্তা হিসেবে তাঁকে চিনেছেন এলাকার মানুষ।
২০১৩ সালের পর থেকে তিনি পরপর টানা দু’বার বিজেপির দক্ষিণ মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জেলা সভাপতি থাকাকালীন ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজনৈতিক হিংসার শিকারও হন তিনি। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হামলায় মারাত্মকভাবে জখম হয়েছিলেন এই গৌরীশঙ্কর।
২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়েন। মুর্শিদাবাদ থেকে প্রথমবার বিধানসভায় পা রাখেন। ওই বছর তৃণমূল কংগ্রেসের শাওনি সিংহ রায়কে ২,৪৯১ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। এবার ছাব্বিশের ভোটেও তাঁর জয়ের ধারা অব্যাহত থেকেছে। ফের মুর্শিদাবাদ থেকেই জিতে সোজা গিয়েছেন বিধানসভায়। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর এবার দায়িত্ব আরও বড়। এবার একেবারে মন্ত্রী। এখন দেখার কতটা শক্ত হাতে এবার নতুন দায়িত্ব সামলান গৌরীশঙ্কর।