Political Attacks in West Bengal: তৃণমূলের সময় BJP-CPM-র কোন কোন নেতার রক্ত ঝরেছিল জানেন?

Assaults on Opposition Leaders in Bengal: অভিষেকের উপর হামলার ঘটনায় শোরগোল পড়ার পর এদিন দিলীপ ঘোষ তৃণমূল আমলে হামলার ঘটনাগুলি স্মরণ করিয়ে বলেন, "যখন নাড্ডার গাড়িতে পাথর মেরেছিল। আমি নিজে গাড়িতে ছিলাম। গাড়ি বুলেট প্রুফ ছিল। নাহলে সেদিন আমরা কেউ বাঁচতাম না। সেটা যদি জনরোষ হয় তাহলে এটাও জনরোষ।"

Political Attacks in West Bengal: তৃণমূলের সময় BJP-CPM-র কোন কোন নেতার রক্ত ঝরেছিল জানেন?
তৃণমূল ক্ষমতায় থাকার সময় একাধিক নেতার উপর এবং তাঁদের কনভয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে Image Credit source: TV9 Bangla

May 31, 2026 | 8:54 AM

কলকাতা: সোনারপুরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বিজেপিকে নিশানা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেছেন, অভিষেকের উপর হামলায় বিজেপি জড়িত নয়। একইসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তৃণমূলের আমলে কীভাবে বিরোধীরা বারবার আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ফিরে দেখা যাক, তৃণমূল আমলে একাধিক জায়গায় বিরোধীদের উপর হামলার ঘটনা।

জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলা-

২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। জেপি নাড্ডা তখন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। ডায়মন্ড হারবারে সভা করতে যাওয়ার পথে নাড্ডার কনভয়ে হামলা চালানো হয়। তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে চলে ইটবৃষ্টি। ইটের আঘাতে ভাঙে পুলিশের গাড়ি সহ বেশ কয়েকটি গাড়ির কাচ। এমনকি দিলীপ ঘোষের এক নিরাপত্তারক্ষীও আহত হন বলে অভিযোগ উঠেছিল।

পাহাড়ে আক্রান্ত দিলীপ ঘোষ-

২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর। দিলীপ ঘোষ তখন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। দার্জিলিং জেলা সদরে ‘গোর্খা দুখ নিবারণী সমিতি’র হলে বিজেপির সভা ছিল। সভাস্থলে হামলা চালিয়ে মাইক কেড়ে নেওয়া হয়। তৎকালীন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দার্জিলিং সদর থানায় অভিযোগ জানাতে রওনা হন। অভিযোগ, সেই সময়েই তাঁকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়। দিলীপবাবুর আপ্ত সাহায়ক দেব সাহা এবং দার্জিলিঙের যুব নেতা রাকেশ পোখরেলকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। রাকেশকে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

কোচবিহারে শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলা-

২০২৫ সালের ৫ অগস্ট। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছিল কোচবিহারে। শুভেন্দুর গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, তাঁর কনভয়ে থাকা একটি পুলিশের গাড়ির উপরও হামলা চালানো হয়। সেই গাড়ির কাচ ভেঙেছিল। সেই হামলার প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেছিলেন, “আমি যে গাড়িতে ছিলাম, সেই গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। আমাকে প্রাণে মারার জন্যই এই হামলা হয়েছে।”

আবার চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি পুরুলিয়ায় জনসভা সেরে ফেরার পথে শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে চন্দ্রকোনা রোড বাজারের কাছে হামলা হয়েছিল। লাঠি ও বাঁশ নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে চন্দ্রকোনা পুলিশ ফাঁড়িতে দীর্ঘক্ষণ ধর্নায় বসেছিলেন তিনি।

হামলায় গুরুতর জখম সাংসদ খগেন মুর্মু-

২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর। জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটায় হামলার শিকার হন মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। বন্যা ও ধস কবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতার হাতে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলায় তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়। তাঁর চোখের নিচের হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তিনিও আক্রান্ত হন।

আক্রান্ত সিপিএমের ধীরেন লেট-

২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর। বীরভূমের ময়ূরেশ্বরের চারবারের সিপিএম বিধায়ক ধীরেন লেট আক্রান্ত হয়েছিলেন। সিপিএমের মিছিলে হামলা চালানো হয়েছিল। বাঁশ দিয়ে মেরে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়,কান ধরে তাঁকে বলতে বাধ্য করা হয় যে তিনি আর কোনওদিন সিপিআই(এম) করবেন না।

গতকাল অভিষেকের উপর হামলার ঘটনায় শোরগোল পড়ার পর এদিন দিলীপ ঘোষ তৃণমূল আমলে হামলার ঘটনাগুলি স্মরণ করিয়ে বলেন, “যখন নাড্ডার গাড়িতে পাথর মেরেছিল। আমি নিজে গাড়িতে ছিলাম। গাড়ি বুলেট প্রুফ ছিল। নাহলে সেদিন আমরা কেউ বাঁচতাম না। সেটা যদি জনরোষ হয় তাহলে এটাও জনরোষ।”

Follow Us