
কলকাতা: গার্ডেনরিচে নির্মীয়মান বহুতল ভেঙে মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়েই সাতসকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই গার্ডেনরিচ দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও আহতদের পরিবারকে ১ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে কড়া তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ ও পুর প্রশাসনকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মেয়র, দমকল মন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থলে। দুর্গতদের পাশে রয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এক্স হ্যান্ডেলে ছবি-সহ পোস্ট করে বেশ কিছু অভিযোগও তুলেছেন তিনি। অভিযোগ করেছেন, ২০১০ র পরে ৫০০০ জলাশয় ভরাট হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই এলাকায় ৮০০ অবৈধ নির্মাণ রয়েছে। পাশাপাশি ভোটের দিন ঘোষণার পরে কী করে মুখ্যমন্ত্রী এবং মেয়র ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেন?
অবৈধ নির্মাণের বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে পুরপ্রশাসনও। পুরসভার নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুর আধিকারিকদের কাঠগড়ায় তুলেছেন খোদ মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ মানছেন মেয়রও। তবে মেয়র ফিরহাদ হাকিম, এখনও বেআইনি নির্মাণের জন্য বাম আমলকেই দোষারোপ করেছেন।
ইতিমধ্যেই গার্ডেনরিচে বহুতল বিপর্যয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ভিত দোতলার। অথচ, সেখানেই তৈরি হচ্ছিল পাঁচতলা বিল্ডিং। তাতেই বিপত্তি। সম্পূর্ন বেআইনিভাবে চার-পাঁচতলা তৈরি হচ্ছিল। ভিত দোতলার বেশি না থাকায় চার তলার ভার বহন করতে পারেনি। তাতেই বিপর্যয়। ইতিমধ্যেই প্রোমোটারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোহম্মদ ওয়াসিম নামে ওই প্রোমোটারের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
যদিও এর প্রেক্ষিতে তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “যাঁরা বিরোধীরা আঙুল তুলছেন, আমি বলব ৪৮ ঘণ্টা পরে তুলুন। মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান। সবার উপরে মানুষ ধর্ম। দিল্লি থেকে বসে টুইট না করে বা বড় বড় ভাষণ না দিয়ে, উদ্ধার কার্য প্রশাসনের মদত করুন। তারপর মানুষ প্রাণে বাঁচলে রাজনীতি হবে।”