
কলকাতা: কোথায় সুমিত রায়? গত ২ মাস ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ককে নিয়ে জল্পনার অন্ত ছিল না। শেষপর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে রক্ষাকবচ পাওয়ার পর শনিবার সিআইডি দফতরে হাজির হয়েছেন সুমিত। আর অভিষেকের আপ্তসহায়ককে সশরীরে দেখতে পাওয়ার পরই মুখ খুললেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, “সুমিত রায়ের অন্তর্ধান রহস্যের যবনিকা পতন হল।” অভিষেকের আপ্তসহায়কের সঙ্গে তাঁর শেষবার কী কথা হয়েছিল, এদিন তাও জানান ঋতব্রত।
কী বললেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা?
সিআইডি তলব পেয়ে ভবানীভবনে সুমিতের হাজিরা দেওয়া নিয়ে ঋতব্রত বলেন, “ভালো তো মানে সুমিত রায়ের অন্তর্ধান রহস্যের যবনিকা পতন হল। উনি হাজিরা দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে যারা তদন্তকারী সংস্থা আছে, এটা এখন তাদের ব্যাপার। সুমিত রায় ও তদন্তকারী সংস্থার ব্যাপার এখন। আমরা বাংলার মানুষ অপেক্ষা করব যে তদন্তে কী উঠে আসে। তদন্তকারী সংস্থা কতটা আমাদের জানাবে, সেটা আমরা অপেক্ষা করব।”
৪ মে রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর সুমিতের সঙ্গে তাঁর শেষবার কী কথা হয়েছিল, এদিন তা জানিয়ে ঋতব্রত বলেন, “ক্যামাক স্ট্রিটের চার্টার্ড মাফিয়ার গোটা অপারেশনটা সুমিত রায়ের মাধ্যমেই হত। কমিউনিকেশনের দায়িত্বে ছিল সুমিত রায়। আমার কাছে সুমিত রায়ের শেষ ফোনটা এসেছি ৪ মে পরবর্তী সময়ে। ফোন করে সুমিত রায় বলল, বস ফোন করতে বলেছে। আমি তখন বলেছিলাম, কোন বস? হুগো বস? অতীতে সুমিত রায়ের সঙ্গে এরকমভাবে কথা বলার সাহস আমারও ছিল না।”
তাঁর সঙ্গে অবশ্য আইপ্যাকের বেশি কথাবার্তা হত জানিয়ে ঋতব্রত বলেন, “স্বাভাবিকভাবে সুমিত রায়ই কমিউনিকেটর ছিল। আমার সঙ্গে যদিও মূল কমিউনিকেশনের বেশিরভাগটা প্রতীক জৈনের গোদরেজ ওয়াটার সাইট থেকে হত। কিন্তু, বিভিন্ন নির্দেশ তো সুমিত রায়ের মাধ্যমেই আসত।”
কয়েকদিন আগে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার এক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, তাঁকে কার্যত হুমকি দিয়েছিলেন সুমিত রায়। কারণ, তিনি বীরভূমের পাথর সম্রাট টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। তারপরই ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে ডেকে এগরার ওই ঠিকাদারকে সুমিত বলেন, “দাদা, আপনি বেশি লাফালাফি করছেন। কেসটা তুলে নিন।” এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলে ঋতব্রত বলেন, “এগরার ওই ঠিকাদার কেন টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে বেশি লাফালাফি করছে, সেই ধমকটাও কিন্তু, সুমিত রায়ের মাধ্যমেই গিয়েছিল। সুমিত রায় চার্টার্ড মাফিয়ার ম্যান ফ্রাইডে (ডান হাত)। সুতরাং যথাযথ তদন্তে সমস্ত রাস্তা ক্যামাক স্ট্রিট পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে পৌঁছবে। সুমিত রায় অবশ্যই জ্যামিতিক নকশার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। আরও অনেক পয়েন্ট আছে। কিছু পয়েন্টের ডট কানেক্টেড। এখন সুমিত রায়ের সঙ্গে সেই ডটগুলো কানেক্ট করে আরও উপরে কানেকশন হলে পুরো জ্যামিতিক নকশাটা বাংলার মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।”