
কলকাতা: কন্যার চোখে কন্যাশ্রী। নামাঞ্জলি। কথাঞ্জলি। আমার পাহাড়। জীবন সংগ্রাম। এ সব প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বইয়ের নাম। তাঁর লেখা দেড়শোর বেশি বই রয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একবার বলেছিলেন, বইয়ের রয়্যালটিতেই তাঁর চলে যায়। মুখ্যমন্ত্রী (তখন তিনি মসনদে) হিসেবে কোনও বেতন নেন না। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার ফেসবুক লাইভে এসে তিনি দাবি করলেন, এবছর এখনও পর্যন্ত বইয়ের রয়্যালটি পাননি তিনি। এর পিছনে বিজেপির হাত থাকতে পারে বলে তাঁর অভিযোগ।
কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
এখন আর তিনি সাংবাদিক বৈঠক করেন না। কিছু বলার থাকলে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে বলেন। সেইমতো এদিন ফেসবুকে লাইভ ভিডিয়োয় একাধিক ইস্যুতে সরব হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে রাস্তায় বেরোতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ তুলে প্রথমেই মমতা বলেন, “আমাকে রাস্তায় বেরতো দেওয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। আদালতে গিয়ে অনুমতি নিতে হচ্ছে। সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলিকে অনুমতি দেওয়া হলেও আমাদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত দখল করছে।”
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকেও অসম্মান ও অপমান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। ছাত্র-যুবকে একজোট হয়ে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান। পুলিশকে দিয়ে বিধায়কদের ভয় দেখানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বলেন, “পুলিশকে দিয়ে বেআইনি কাজ করানো হচ্ছে।”
‘বইয়ের রয়্যালটি দিয়ে আমার চলে’-
বইয়ের রয়্যালটি থেকে পাওয়া টাকাতেই তাঁর চলে যায় বলে আগেও জানিয়েছেন মমতা। এদিন সেকথা উল্লেখ করেই বিস্ফোরক অভিযোগ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাকে নানা কুকথা বলে। যদিও তারা জানে যে আমি এক পয়সা মাইনে পর্যন্ত নিইনি। আমি আজ পর্যন্ত এক পয়সা পেনশন নিইনি। আমার বইয়ের রয়্যালটি দিয়ে আমার চলে। কিন্তু, সেই রয়্যালটিও আমি এ বছর পাইনি। নিশ্চয় বিজেপির ভয়ে তারা মুখ বন্ধ করে বসে রয়েছে। মানুষ বইমেলায় বই কিনেছে। সেই টাকা আমাদের লোকেরাও জাগো বাংলা স্টল থেকে দিয়েছে। কিন্তু, আজও পর্যন্ত আমি পাইনি। নিশ্চয় এর পিছনে খেলা রয়েছে।”
তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের সুপ্রিমো বলেন, “আমাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে।” বিদেশ থেকে আরএসএস ফান্ড পায় বলে দাবি করেন মমতা। একইসঙ্গে বলেন, “আমরা বিদেশি ফান্ড নিই না। কিন্তু, অনেক দলই নেয়।” ফেসবুক লাইভের শেষে মমতা হুঙ্কার দেন, তাঁকে আটকে রাখা যাবে না। বলেন, “আমায় আপনারা যত আটকানোর চেষ্টা করবেন, তত দ্বিগুণভাবে ঘুরে দাঁড়াব। কারণ, আমি ছাত্র রাজনীতি করে এসেছি। যুব রাজনীতি করে এসেছে। আমি চেয়ারকে কেয়ার করি না, মানুষকে কেয়ার করি।”