
কলকাতা: কোথায় কখন যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির উপর নজর তো রাখছিলই। বেঙ্গল এসটিএফের সন্দেহ, তার চেয়েও আরও একধাপ এগিয়ে গিয়েছিল ধৃত সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডল। পুলিশ কিংবা সিআরপিএফ জওয়ানদের পোশাক পরেই মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণের ছক ছিল হামিমের। এমনই সন্দেহ বেঙ্গল STF-র।
হামিমকে গ্রেফতারের পরে তার মোবাইল ঘেঁটে চক্ষু চড়কগাছ বেঙ্গল STF -র গোয়েন্দাদের। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অনলাইনে পুলিশের ইউনিফর্ম ও সিআরপিএফ জওয়ানদের মতো দেখতে পোশাক অর্ডার করেছিল হামিম। পেশায় গার্মেন্টস লেভেলিংয়ের কাজ করা হামিম কেন পুলিশের ও সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত পোশাক কিনতে চেয়েছিল, তা ভাবাচ্ছে STF-কে। পুলিশ ও সিআরপিএফ জওয়ানের পোশাক পরলেই মুখ্যমন্ত্রীর কিছুটা কাছে যাওয়া সম্ভব। সেই কারণেই কি এগুলি অর্ডার দিয়েছিল হামিম? বেঙ্গল STF সেটাই এখন খতিয়ে দেখছে।
বাংলায় এর আগেও একাধিক সন্দেহভাজন জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছে। বাংলা কি জঙ্গিদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল? এই নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “কোভিডের সময় বিভিন্ন জায়গায় মডিউল ছড়িয়ে ফেলেছিল জঙ্গিরা। ভারত সরকারের তরফে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সেটা জানানো হয়েছিল। কিন্তু, তৎকালীন রাজ্য সরকারের তরফে সেই ধরনের কোনও দৃঢ় পদক্ষেপ করা হয়নি। বাম জমানায় পশ্চিমবঙ্গ ছিল জঙ্গিদের নিরাপদে পারাপারের জায়গা। আর তৃণমূল কংগ্রেস এটাকে সেফ হোম (নিরাপদ আশ্রয়) বানিয়ে দিয়েছিল।”
প্রসঙ্গত, বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে সন্দেহভাজন জইশ জঙ্গি হামিমকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলায় থাকছিল হামিল সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর বছর চব্বিশের সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিম। সূত্রের খবর, ধৃত হামিমের কাছে পাওয়া গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি, সূচি, ভিআইপি মুভমেন্টের সমস্ত নথি।