
কলকাতা: মেইল, ফেসবুক আর ইন্সটাগ্রাম। এগুলো ছাড়া এখন কার্যত চলে না। তাই এখন সাইবার অপরাধীদের মেন টার্গেট হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা মেইল আইডি। সামান্য একটু অসাবধানতায় হ্যাকারদের হাতে চলে যাচ্ছে মেইল, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নিয়ন্ত্রণ। তারপর পার্সোনাল ডেটা ও ছবি চুরি, ওটিপি-পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দেওয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্টে চরম সম্মানহানি-এসবই সম্ভব। অতি সহজে সম্ভব। কিন্তু, এগুলো কীভাবে আটকানো সম্ভব?
কীভাবে হচ্ছে তথ্য চুরি?
এখন বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপে জি-মেইলের মাধ্যমে লগ-ইন করা যায়। জালিয়াতরা একদম আসলের মতো দেখতে নকল লগ-ইন পেজ বানিয়ে মেইল পাঠায়। সেখানে আপনি একবার আপনার জিমেইলের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিলেই তা সঙ্গে সঙ্গে হ্যাকারের সার্ভারে চলে যায়। আপনি ফোনে অচেনা অ্যাপ ডাউনলোড করলে তা থেকে আপনার ডিভাইসে ম্যালওয়ার ঢুকে পড়তে পারে। এরপর আপনি যখনই ওই ডিভাইসে ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রাম ওপেন করবেন, তখন আপনার পুরো অ্যাকটিভ লগ-ইন সেশনটা চুরি হয়ে যাবে। আপনার ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামের আইডি, পাসওয়ার্ড, ছবি, চ্যাট – সবকিছুই হ্যাকাররা পেয়ে যাবে। এছাড়াও একই পাসওয়ার্ড দিয়ে যদি একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, তাহলে কোনও একটা জায়গা থেকে ডেটা চুরি গেলেই আপনার জি-মেইল, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, সব বেহাত হয়ে যেতে পারে।
তথ্য চুরি রুখতে কী করবেন?
তথ্য চুরি রোখার উপায় দুটো। এক নিয়মিত চেক করা। আর, দুই ব্যবস্থা নেওয়া। প্রথমে দেখে নেওয়া যাক, কীভাবে চেক করবেন। জিমেইলের সেটিংসে গিয়ে Last Account Activity লিস্ট দেখুন। ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামের Settings and Privacy-তে গিয়ে Where You’re Logged In অপশনে ট্যাপ করুন। যদি চোখে পড়ে যে আপনি কখনও যাননি এমন কোনও লোকেশনে বা আপনার অপরিচিত কোনও ডিভাইসে আপনার অ্যাকাউন্ট খোলা রয়েছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে Log Out করে দিন।
আর এবার হল ব্যবস্থা নেওয়া। হ্যাকিং প্রতিরোধে কী করবেন? প্রথমেই টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন। জিমেইল, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের সেটিংসে গিয়ে 2FA অন রাখুন। এর ফলে কেউ আপনার পাসওয়ার্ড জেনে ফেললেও আপনার ফোনে আসা বিশেষ কোড ছাড়া আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না। ইউনিক এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন যাতে একটা পাসওয়ার্ড হ্যাক হলেও বাকি অ্যাকাউন্টগুলো সুরক্ষিত থাকে। প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। পাসওয়ার্ডে বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা, স্পেশাল ক্যারেক্টার ব্যবহার করা জরুরি।