
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন আঞ্চলিক মেরুকরণের জল্পনা উসকে দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। TV9 বাংলা-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়েছেন, দক্ষিণের রাজনৈতিক দল ‘তামিলগা ভেট্রি কড়গম’ (TVK)-এর প্রধান তথা জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় থলপতির সঙ্গে হাত মেলাতে আগ্রহী তিনি। বাংলায় বিজয়ের দলের সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন এই নেতা।
কংগ্রেস ও তৃণমূলের থেকে দূরত্ব
হুমায়ুন কবীরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, মমতা-অভিষেক তো দিল্লি গিয়েছেন, ইন্ডি-জোটের বৈঠক হল, তাতে নতুন করে একটা শক্তির আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে কি তিনি কোনও বিরোধী জোটের সঙ্গে হাত মেলাবেন?
ইন্ডি জোট এবং তৃণমূল-কংগ্রেস প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাজ্যের চেনা রাজনৈতিক সমীকরণকে নাকচ করেছেন হুমায়ুন কবীর। দীর্ঘ ৩০ বছর কংগ্রেস করলেও প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে কোনও সমঝোতায় যেতে তিনি নারাজ। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির কারণে তাঁদের রাজনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।
তাঁর কথায়, “আমি ৩০ বছর কংগ্রেস করেছি। অধীর চৌধুরী যতদিন কংগ্রেসের নেতা রয়েছেন, কোনও প্রশ্নই ওঠে না কংগ্রেসে সঙ্গে সমঝোতার। আর মমতা-অভিষেক দিল্লিতে গিয়েছেন, অভিষেকের কথা আমাদের খুবই ক্ষতি হয়েছে।”
তামিলনাড়ু সফর ও বিজয়ের পাশে থাকার বার্তা
রাজ্য রাজনীতির দুই প্রধান শিবিরের বাইরে হেঁটে নতুন পথ খোঁজার বার্তা দিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমি আগামী দিনে ভোট মিটলে তামিলনাড়ুতে যাব। বিজয় থলপতির সঙ্গে কথা বলব। যতদিন বেঁচে থাকব, বাংলার স্বার্থে তামিলনাড়ুর দলের সহযোগী দল হিসেবে এখানে শক্তি সঞ্চার করব।” তিনি এও জানিয়েছেন, তাঁকে বিজয়ের দলের পক্ষ থেকে কেউ আন অফিসিয়ালি জানিয়েছেন, তাঁরা আগ্রহী রয়েছেন।
বিজয়ের ‘টিভিকে’ এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
২০২৪ সালে অভিনেতা জোসেফ বিজয় আত্মপ্রকাশ করান তাঁর রাজনৈতিক দল ‘তামিলগা ভেট্রি কড়গম’ (TVK)। ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে প্রধান লক্ষ্য করে সংগঠন শক্ত করার কাজে নেমেছেন ‘থলপতি’ বিজয়। দুর্নীতিমুক্ত শাসন, স্বচ্ছতা এবং জাতপাত-নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি তামিলনাড়ুর বহু বছরের চেনা দ্বিপাক্ষিক রাজনীতির বাইরে এক শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ হিসেবে উঠে এসেছেন। এবার সেই রাজনৈতিক ভাবনার সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলায় নিজেদের জমি শক্ত করতে চাইছেন হুমায়ুন কবীর।