
কলকাতা: সালটা ২০২৩। ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের (TMC) বিরুদ্ধে। আইএসএফ বিধায়কের গাড়ির উপর এই হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছিল। সেই দিনই শপথ নিয়েছিলেন, ছাব্বিশের ভোটে পর্যন্ত এই ভাঙা গাড়ি তিনি রেখে দেবেন। সারাবেন না। তেমনই হল। এ দিন, অর্থাৎ বুধবার নওশাদের ছিল বিধানসভায় শপথ। ভাঙা সেই গাড়ি নিয়েই বিধানসভায় হাজির হলেন আইএসএফ বিধায়ক।
শপথে যাওয়ার আগে একটি ভিডিয়ো নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন নওশাদ। দেখা যাচ্ছে, একগাল হাসি নিয়ে তিনি বেরিয়ে আসছেন। তখনই গাড়ির দিকে তাকিয়ে দেখা গেল তাঁর সামনের কাচ এখনও ভাঙা। একদিকের লুকিং গ্লাসের কাচও লাগানো হয়নি। সেই অবস্থাতেই কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি।
দলীয় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালে গণ্ডগোলের সূত্রপাত। ভাঙড়ের হাতিশালায় দলীয় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও আইএসএফ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ (Trinamool-ISF Clash) শুরু হয়। একে-অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই হামলারই আঁচ পড়ে শহর কলকাতায়। বিকালে ধর্মতলায় (Esplanade) পুলিশের সঙ্গে কার্যত খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে আইএসএফ কর্মীদের। পুলিশকর্মীদেরও মারধরের অভিযোগ ওঠে। এরপর পুলিশের তরফে চলে ব্যাপক ধরপাকড়। গ্রেফতার করা হয় আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী সহ ১৯ জন। যার মধ্যে এক নাবালকও ছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি জমায়েত, অস্ত্র নিয়ে গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, সরকারি কর্মীদের উপর হামলা, খুনের চেষ্টা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। সেদিনই বিধায়ক প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, এই ভাঙা কাচের গাড়ি ২০২৬-এর বিধানসভা পর্যন্ত থাকবে। সেই মতোই ভাঙা গাড়ি নিয়েই এবার বিধানসভার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি।