
শ্রাবন্তী সাহা ও সুমন মহাপাত্রের রিপোর্ট
কলকাতা: উচ্চ-শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষাকে আরও প্রসারিত করতে এবার বেসরকারি সংগঠনগুলির কাছে আবেদন উচ্চ-শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের। পিএম সেতু (PM SETU) প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে রাজ্যের ৫১টি সম্পূর্ণ সরকারি আইটিআই-কে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। মূলত, বেসরকারি সংস্থাগুলি সরকারের আইটিআই (ITI) কলেজগুলিতে এসে পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণ দেবে। পরে তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থায় নিয়োগ করবে। বেঙ্গল চেম্বার্স অব কর্মার্সের পঞ্চম বিশ্ব এমএসএমই দিবসে সংস্থার কাছে আবেদন, যাতে রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে যাতে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেই বিষয়টি দেখতে।
এ ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উচ্চ-শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই আইটিআইগুলিকে আরও সংস্কার করার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হয়ে। জগন্নাথ বলেন, “আমার কাছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ কতগুলি বেচতে পারলে। আমি বললাম, দাদা চেষ্টা করছি বেচার।” উচ্চ-শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমি উদার্ত কণ্ঠে আহ্বান করছি পিএম সেতু প্রকল্পে ৫১টা আইটিআই আছে…। আসুন আমাদের আইটিআই গুলিতে আমাদের সঙ্গে কোলাবোরেট করুন। পাঁচ বছর পর চলে গেলেন। এতে আইটিআই-এর উন্নতি হবে।” তিনি এও বলেছেন, প্রথমে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করা যেতে পারে, পরে রাজ্য সরকার সেটা আবার চালাতে পারে। জগন্নাথ বলেন, “পরে এবার এই স্কিমের এক্সটেনশন হতে পারে।”
শুধু উচ্চ-শিক্ষাই নয়, শিল্পপতিদের উদ্দেশে এ দিন বার্তা দেন রাজ্যের মন্ত্রী। ব্যবসার প্রসারে তাঁদের সঙ্গে যে প্রতিমুহূর্তে রাজ্য সরকার পাশে রয়েছে সে কথাও বলেছেন তিনি। জগন্নাথ বলেন, “সরকার নিজের দায়িত্ব সম্পূর্ণ পালন করবে। তবে আমরা বেঙ্গল চেম্বার এবং অন্যান্য বণিক সভা ও শিল্পপতিদের কাছে অনুরোধ রাখব, আপনারা এগিয়ে আসুন এবং এই রাজ্যে আরও বেশি করে বিনিয়োগ করুন। আমরা সবাই মিলে যৌথভাবে এ রাজ্যে বাণিজ্যের একটি সুস্থ পরিবেশ বা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলব।”
PM সেতু প্রকল্প কী?
পিএম সেতু প্রকল্প হল কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ। এর পুরো নাম (Pradhan Mantri Skilling and Employability Transformation through Upgraded)।
দেশের প্রায় ১০০০ আইটিআই প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকীকরণ করাই এই প্রকল্পের উদ্যোগ। শুধু আধুনিকীকরণ নয়, প্রতিষ্ঠান গুলিকে শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী গড়ে তোলাই এর লক্ষ।