NCPI: ‘বহুজন’ থেকে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’, রাতারাতি এনসিপিআই-এ নাম বদলেও ফের পোস্ট মুছলেন কাকলি-পুত্র!
Bahujan NCPI to West Bengal NCPI: শনিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন বৈদ্যনাথ। সেখানে দেখা যায় এনসিপিআই-এর আগে জুড়েছে 'বহুজন' শব্দ। অর্থাৎ বহুজন এনসিপিআই। পোস্টে লেখা, বহুজন এনসিপিআই পার্টিতে যোগদান করুন। দলিত, মুসলিম, জনজাতি-উপজাতি, ওবিসি মানুষদের যোগদানের আহ্বান জানানো হয়। রাতেই বদলে যায় সেই পোস্ট।

কলকাতা: সকালে ছিল ‘বহুজন’। রাতে হল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ (West Bengal NCPI)। এনসিপিআই (NCPI)-এর নাম বিতর্কের মধ্যে এবার রাতারাতি পোস্ট বদল কাকলি পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের। পরে অবশ্য সেই পোস্টও মুছে দেন তিনি। উল্লেখ্য, লোকসভার নতুন দল হিসেবে এখনও মান্যতা পায়নি এনসিপিআই। তৃণমূল (TMC) ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া কাকলি, রচনা, সুদীপ-সহ ২০ জন সাংসদের ভবিষ্যত একপ্রকার ঝুলেই রয়েছে। এই আবহে শনিবার সকালে কাকলি পুত্রের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে জোর জল্পনা শুরু হয়। সংবাদমাধ্যমে এই নিয়ে ব্যাখ্যাও দেন তিনি। কিন্তু, রাতেই আবার সেই পোস্ট বদলে ফেলেন বৈদ্যনাথ। কিন্তু পরে দেখা যায়, সেই সংক্রান্ত পোস্টও ডিলিট করেছেন। তবে, এনসিপিআই-এর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে জ্বলজ্বল করছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ এনসিপিআই।
বৈদ্যনাথের পোস্ট থেকে বিতর্কের শুরু
শনিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন বৈদ্যনাথ। সেখানে দেখা যায় এনসিপিআই-এর আগে জুড়েছে ‘বহুজন’ শব্দ। অর্থাৎ বহুজন এনসিপিআই। পোস্টে লেখা, বহুজন এনসিপিআই পার্টিতে যোগদান করুন। দলিত, মুসলিম, জনজাতি-উপজাতি, ওবিসি মানুষদের যোগদানের আহ্বান জানানো হয়। ফোন নম্বরও দেওয়া হয় যোগাযোগের জন্য। পোস্টে আরও জানানো হয়, দলীয় সমস্ত পদে দলিত, অতি অনগ্রসর শ্রেণি, মহাদলিত, মতুয়া ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের জন্য ২৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কী ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন বৈদ্যনাথ?
বৈদ্যনাথের এই পোস্টের পরই জল্পনা শুরু হয়। একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তাহলে কি এনসিপিআই-এর নাম বদলে যাচ্ছে? নাকি এনসিপিআই অন্দরে অসন্তোষের কারণে নতুন দল গড়তে চলেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার? যদিও এই বিষয় নিয়ে কাকলি পুত্রের ব্যাখ্যা, এটা আলাদা কোনও দল নয়। বরং বলা ভালো, দলের একটি উইং বা শাখা কিংবা ট্রাস্ট। এই শাখা আদিবাসী, মুসলিম, তফসিলি উপজাতি, দলিতদের জন্য কাজ করবে। যদিও এই ব্যাখ্যার পরেও এনসিপিআই শিবিরে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয় বলে সূত্রের খবর। সাংসদ আবু তাহের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার যা বলবেন, তা নিশ্চয় সম্মানের। কিন্তু তাঁর ছেলে কী পোস্ট করছে না করছে, তার সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। ওঁর ব্যক্তিগত উক্তি ওটা।

বৈদ্যনাথের পোস্ট
পোস্ট মুছলেন কাকলি-পুত্র
এরপর শনিবার রাতেই দেখা গেল এনসিপিআই-এর পাশ থেকে বহুজন উধাও। জুড়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল। অর্থাৎ বহুজন এনসিপিআই পার্টি থেকে হয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল এনসিপিআই। হঠাৎ এই রাতারাতি নাম বদলের কারণ নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এনসিপিআই অন্দরে ক্ষোভ, বহুজন নাম বিতর্কের জেরেই কি পোস্ট বদলে ফেললেন কাকলি-পুত্র? পরে আবার সেই পোস্ট কেন ডিলিট করলেন? সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। তবে, এনসিপিআই-এর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে ওয়েস্ট বেঙ্গল এনসিপিআই পার্টিরই উল্লেখ রয়েছে।
