
কলকাতা: জোড়া ফুল প্রতীকের প্রকৃত অধিকারী কারা? কালীঘাট তৃণমূল নাকি ঋতব্রত তৃণমূল? জল গড়িয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত। এরই মধ্যে রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে আলিপুর আদালতের একটি নির্দেশনামা তুলে ধরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁরাই বৈধ তৃণমূল। অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান করে তাঁরা যে কমিটি গঠন করেছেন, সেই কমিটিকেই তৃণমূলের একমাত্র বৈধ কমিটি বলে রায় দিয়েছে আলিপুর আদালত। ঋতব্রতর এই দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে। তারপরই আসরে নামে কালীঘাট তৃণমূল। ঋতব্রতর দাবিকে খারিজ করে তারা জানিয়ে দিল, তৃণমূল কর্মীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন ঋতব্রত।
কী বলল কালীঘাট তৃণমূল?
ঋতব্রত সাংবাদিক বৈঠক করার পরই মমতাপন্থী তৃণমূলের আইনজীবী অর্ককুমার নাগ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রতর দাবি খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, “ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় একটা সাংবাদিক বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, আদালত একটা রায় দিয়েছে। যেখানে নাকি আদালত তাঁদের আসল তৃণমূল বলে স্বীকৃত দিয়েছে। প্রথম কথা হল, এই মামলা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় করেননি। এই মামলাটি জুঁই বিশ্বাসের সঙ্গে আরও ২-৩ মিলে করেছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছেন, তাঁদের আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য। নির্বাচন কমিশনের থেকে এখনও কিছু বলা হয়নি। আমাদের বক্তব্যও কমিশনে জানিয়েছি। ঋতব্রতরা কী জানিয়েছেন কমিশনে, তার প্রতিলিপি আমাদের কাছে নেই।”
এরপরই আলিপুর আদালতের নির্দেশের ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এরই মাঝে হঠাৎ করে জুঁই বিশ্বাসরা মনে করলেন, তাঁরা আলিপুর আদালতে মামলা করবেন। মামলা করেছেন। সেই মামলাতেই এক্স পার্টি অর্ডার (শুধুমাত্র বাদী পক্ষের বক্তব্য শুনে আদেশ) পাশ হয়েছে। এরকম অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার অধিকার রয়েছে। এই নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।”
ঋতব্রতকে নিশানা করে আইনজীবী অর্ককুমার নাগ বলেন, “এই কোর্টের অর্ডারের কথা বলে, আইনের কথা বলে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা কোনও রায় নয়। এটা কোনও চূড়ান্ত রায় নয়। ঋতব্রতরা অন্য লোক দিয়ে মামলা করিয়ে, নিজেরা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কখনও নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন, কখনও আলিপুর আদালতে গিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁরা নিজেরাই বিভ্রান্ত। তাই আইনের মারপ্যাঁচের মাধ্যমে তৃণমূলের লোকেদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। এতে বিভ্রান্তির কিছু নেই। এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই রয়েছেন। এবং তাঁর নেতৃত্বেই তৃণমূলের কর্মসূচি পালিত হবে।”