
কলকাতা: সালটা ২০১৭। রোজ়-ভ্যালি কাণ্ডে তখন সিবিআই হেফাজতে বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Banerjee)। প্রায় ৪ মাস জেল হেফাজতে ছিলেন। সুদীপের সেই খারাপ সময়ে পাশে ছিল দল, পাশে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কাট টু ২০২৬। আজ যখন তৃণমূল ভেঙে খানখান, কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক সেইসময় কিন্তু সুদীপকে পাশে পেলেন না নেত্রী। সূত্রের খবর, বিদ্রোহী ব্লকে সুদীপও নাম লেখাচ্ছেন। গতকাল অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে বৈঠকের পর সেই জল্পনা আরও বেড়েছে। অথচ এই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য একটা সময় দল বহু দক্ষ নেতাকে হারিয়েছে। এমনটাই দাবি করছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রশ্রয়ের জন্যই তাঁকে আজ এই দিন দেখতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
তৃণমূলের শুরু থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘনিষ্ঠদের তালিকায় একেবারে প্রথমেই ছিলেন সুদীপ। যদিও, মাঝে মমতার সঙ্গে বিরোধও হয়েছিল। তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসেও গিয়েছিলেন। আবার পরে তৃণমূলে ফিরে আসেন। দলবদলের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় স্নেহের পাত্র ছিলেন সুদীপ। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের দাবি, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব কথা শুনতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুদীপের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করা হলে শুনতেন না তৃণমূল সুপ্রিমো। বরং সুদীপের বিরোধিতা করে কুণালকেই সাসপেন্ড হতে হয়েছিল।
উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই বহু নেতা দল ছেড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বারবার। এই নিয়ে কম বিতর্কও হয়নি রাজনৈতিক মহলে। এবার সুদীপ গতকাল অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতেই সেই বিতর্ককে আরও একবার উস্কে দিল। উঠে এল তাপস রায়ের দলত্যাগ প্রসঙ্গ। ২০২৪ সালে তৃণমূল ছাড়েন তাপস রায়। সেইসময় অভিযোগ উঠেছিল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তাপস। আবারও একবার সেই অভিযোগ উঠে এল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই স্পষ্টবক্তা। রাজনীতিতে ‘ঠোঁটকাটা’ হিসেবেই পরিচিত তিনি। কল্যাণ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্রয়ের জন্যই এটা হয়েছে। সুদীপ-শাহের সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “সুদীপদা মমতাদির প্রচুর প্রশ্রয় পেয়েছেন। সবার অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন শুধু সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। এমনকী, তাপস রায়ও বোধ হয় চলে গিয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। এটা মানতে হবে। ২০১৯-এ তাপস রায় লোকসভার জন্য কন্টেন্ডর ছিলেন। সুদীপ দা বলে সেটাও পর্যন্ত রিজেক্ট করে দিয়েছিল। সুদীপদার জন্য অনেককে হারিয়েওছি। যাঁরা দল থেকে চলে গিয়েছে।”
মুখ খুলেছেন কুণাল ঘোষও। তিনি বলেন, “এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাপ্য-পাওনা এই ধরনের জিনিসপত্রকে মাথায় তুলে রেখেছিলেন। তাপস রায়কে চলে যেতে হল ওর জন্য। অথচ তাপস রায় দক্ষ নেতা। উনি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে কেঁদে-কেঁদে বলছেন আমায় উত্তর কলকাতার সভাপতি আবার করে দাও।” সুদীপের বিরুদ্ধে কুণালের আরও অভিযোগ, সজল ঘোষের বাড়িতে পুলিশ দিয়ে দরজা ভাঙানো হয়েছিল। তাহলে কি তৃণমূলের হারানোর তালিকায় সজলও রয়েছেন বলেই কি কোনও ইঙ্গিত করতে চাইলেন কুণাল?
তাপস রায় যখন দল ছাড়লেন, সেইসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, সুদীপদাও তো জেলে গিয়েছিলেন, কিন্তু, দল ছেড়ে যাননি। সেইসময় কি অলক্ষ্যে হেসেছিলেন ভগবানও? যদিও দল ছাড়ার কথা কিছু বলেননি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, তিনি যে বিদ্রোহী ব্লকে নাম লেখাচ্ছেন, তা শাহের সঙ্গে বৈঠকের পরই জল্পনা জোরালো হয়েছে। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় সুদীপের সব কথা মেনে চলতেন, সেই সুদীপই মমতার সঙ্গে আর থাকলেন না।