
কলকাতা: এবার স্ক্যানারে তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি। তাঁর ২১ টি সম্পত্তির প্ল্যান জমা করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুরনিগম। অনুমোদন ও নির্মাণের সঙ্গতি যাচাইয়ে নোটিস দিয়েছে পুরনিগম। দু’দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অগাধ সম্পত্তির খতিয়ান তুলে ধরেন। তারপরই কলকাতা পৌরসভার বিল্ডিং বিভাগের তরফে নোটিস পাঠানো হয়। যদিও মেয়র ফিরহাদ হাকিম দাবি করেছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না।
অভিষেকের কোম্পানি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যে ক’টি সম্পত্তি রয়েছে, তার নথি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৯ নম্বর বোরো অফিস থেকে সব কটি সম্পত্তিতে নোটিস গিয়েছে। এই সম্পত্তিগুলি কি বৈধ? বৈধ থাকলে কাগজ কী রয়েছে? কলকাতা পুরনিগম সূত্রে খবর, বিল্ডিং বিভাগের আইনের ৪০১ ধারায় এই নোটিসটি দেওয়া হয়েছে। পৌরসভার তরফ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সেই সব নথি জমা দিতে হবে। তবে এই সময়সীমার মধ্যে সমস্ত নোটিস জোগাড় করতে না পারলে অভিষেক সময় চাইতে পারেন।
গত রবিবার শুভেন্দু অধিকারী তোপ দেগেছিলেন, “ভাইপোবাবু আপনার প্রপার্টির লিস্টটা আনালাম কলকাতা কর্পোরেশন থেকে। আপনার লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ২৪ টি প্রপার্টি কলকাতায়, আমতলায় প্রাসাদের মতো অফিস।”
পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সম্পত্তিগুলিতে নোটিস পাঠানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে হরিশ মুখার্জি রোডের একটি বাড়ি। এছাড়াও কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতল রয়েছে। যদিও এই নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও সামনে আসেনি। উল্লেখ্য, এর আগেও কেন্দ্রীয় এজেন্সির র্যাডারেও ছিল লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস কোম্পানি। ২০০৯ সালে ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ তৈরি করেছিলেন।
২০১৪ সালে তিনি লোকসভা ভোটে যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তখন তিনি ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দেন। তখন তাঁর বাবা, মা এবং স্ত্রী ওই সংস্থার ডিরেক্টর পদে থাকেন। অভিষেক তখন এই সংস্থার সিইও।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরনোর মতোই উঠে আসে এই কোম্পানির নাম। কেন্দ্রীয় এজেন্সির নজরে পড়ে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’। এবার এই অফিসেরও কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বার করতে চাইছে পুরনিগম।