
কলকাতা: দিকে দিকে চলছে বিক্ষোভ। কোথাও পুরসভায় আবার, কোথাও পঞ্চায়েতে। অন্নপূর্ণ যোজনার টাকা না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন অনেক মহিলাই। এদিকে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পাড়ার ঠেক, সর্বত্রই চর্চা কার বাড়ির মেয়েদের টাকা আর কার এখনও ঢোকেনি তা নিয়েই। এরইমধ্যে দেখা যায় এখনও যাদের টাকা ঢোকেনি তাঁদের একটা বড় অংশের মহিলার সরকারি সাইটে স্টেটাস চেক করতে গিয়ে দেখা যায় অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্টেড দেখা যাচ্ছে। ফলে তাঁদের আর টাকা ঢুকবে কিনা তা নিয়ে স্বভাবতই চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
শনিবার সকাল-দুপুর পর্যন্তও এই ছবিটা দেখা গেলেও রাতেই বদল। এরইমধ্যে দেখা যায় যাঁদের স্টেটাসে লাল কালিতে অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্টেড দেখা যাচ্ছেন তাঁদের অনেকের জন্যই এসেছে সবুজ সংকেতয। সবুজ কালিতেই লেখা Under Enquiry. নানা মহলে শোনা যাচ্ছে এই স্টেটাস বদল আসলে কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর মহিলাদের জন্য। কারণ সূত্রের খবর, আগামীতে এই ফর্মগুলির জন্য আগামীতে এডিট অপশন এমনকি বাড়ি বাড়ি ভেরিফিকেশনও হতে পারে। যদিও সরকারিভাবে এই সংক্রান্ত অফিসিয়ালি কোনও আপডেট দেওয়া হয়নি। তবে সরকারি সাইট যে ঘনঘন নতুন আপডেট নিয়ে চলে আসছে তা বলাই বাহুল্য।
এদিকে এরইমধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শনিবার কোচবিহার শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক উত্তেজন তৈরি হয়। সার্ভের কাজে আসা দুই মহিলা কর্মীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মহিলারা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সমীক্ষার কাজে আসা দুই মহিলা কর্মী প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রী হওয়ায় তাঁরা পক্ষপাতিত্ব করে বেছে বেছে সার্ভে করছেন। এর জেরেই বহু প্রকৃত উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পৌঁছায়নি বলে তাঁদের দাবি। শেষে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে আবার আসানসোলের বারাবনি বিধানসভার পানুড়িয়া হাটতলা এলাকায় দেখা যায় সম্পূর্ণ অন্য ছবি। অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা পেয়ে খুশিতে মাতোয়ারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলারা। নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এককালীন ৩,০০০ টাকা করে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন এলাকার কয়েকশো দরিদ্র পরিবার। এই আনন্দ উদযাপনে এদিন স্থানীয় পানুরিয়া বাজারে জড়ো হয়ে তাঁরা একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে একে অপরের সঙ্গে খুশি ভাগ করে নেন।