
কলকাতা: এবার আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বাড়ি নিয়েও শোরগোল। বাড়ির একাধিক জায়গায় হয়েছে অবৈধ নির্মাণ। সেটাকেই বেআইনি ঘোষণা করল কলকাতা পৌরসভা। কলকাতা পুরসভার নকশার অনুমোদনের বাইরে গিয়ে একাধিক নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানানো হল পুরসভার তরফে। তাঁর ও তাঁর স্ত্রী ডাক্তার সঙ্গীতা ঘোষের মালিকানাধীন একটি বাড়ির ছাদে তৈরি হওয়া বেআইনি ‘পারগোলা’ আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন পুরসভার স্পেশাল অফিসার (বিল্ডিং) এস বোরাল।
বেলেঘাটার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ৮৩ নম্বর বদন রায় লেনের ওই বাড়িটির বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ করেছিলেন অংশুমান সরকার নামের এক জনৈক ব্যক্তি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই চলে শুনানি। গত ১৪ মে হওয়া শুনানির পর এই ভাঙার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সূত্রের খবর মামলার শুনানিতে সন্দীপ ঘোষ স্বীকার করে নেন যে পারগোলাটি বাড়ির কমপ্লিশন প্ল্যান-এ ছিল না। এরপরই কলকাতা পুরসভার স্পেশাল অফিসার (বিল্ডিং) স্পষ্ট নির্দেশ দেন ৪৫ দিনের মধ্যে ছাদের ওই বেআইনি অংশটি সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই সন্দীপ ঘোষের বাড়ি নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। দীর্ঘদিন ধরেই শুনানি চলছিল। চাপানউতোরও কম হয়নি। এরইমধ্যে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই শহরে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ করছে সরকার। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি প্রশাসনিক-রাজনৈতিক মহলেও বিস্তর চর্চা চলছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পরেই ফের খুলে গিয়েছে আরজি কর ফাইল। একের পর বড়সড় পদক্ষেপ করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিছুদিন আগেই সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর ছাড়পত্র দিয়েছেন তিনি। এদিকে সন্দীপ ঘোষ সংক্রান্ত মামলা ঝুলে ছিল দীর্ঘদিন থেকেই। নতুন সরকার আসতেই সেই জট কেটে গেল। নিজেই পোস্ট করে সে কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সন্দীপের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল না। কিন্তু বিজেপি সরকার সেই অনুমতি দিতে দেরি করল না। এবার তাঁর বাড়ির অবৈধ অংশ নিয়েও চলছে চাপানউতোর।