
কলকাতা: কলকাতা থেকে সরাসরি ইংল্যান্ড ও ইউরোপে বিমান পরিষেবা চালু এবং রাজ্যে বিমান পরিকাঠামোর ব্যাপক প্রসারে যৌথ উদ্যোগ নিল রাজ্য ও কেন্দ্র। সোমবার এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী কিঞ্জরাপু রামমোহন নাইডুর উপস্থিতিতে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হল। একই সঙ্গে বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে পাইলট ট্রেনিং হাব গঠন এবং রাজ্যে ৮টি নতুন বিমানবন্দর তৈরির কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বেহালায় পাইলট ট্রেনিং ও ইউরোপের বিমান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা থেকে ইউকে (UK) তথা ইউরোপে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করার জন্য তিনি আগেই কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে রাজ্যের যুবক-যুবতীদের বৈমানিক হওয়ার সুযোগ করে দিতে বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে উন্নত মানের পাইলট ট্রেনিং পরিকাঠামো অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রের কাছে জোরালো সওয়াল করেন তিনি। তিনি বলেন, “স্মিথ যেভাবে আমাদের জীবন বাঁচিয়েছেন, সেখান থেকেই শিক্ষা নিয়ে আমাদের যুব সমাজকে পাইলট হওয়ার সুযোগ করে দিতে চাই।”
মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি এবং বিমান পরিকাঠামোর উন্নতির ফলে যাত্রী চলাচলের পাশাপাশি রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতের বাণিজ্যে জোয়ার আসবে।
৮টি বিমানবন্দর ও কলকাতায় দ্বিতীয় এয়ারপোর্টের আশ্বাস
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের উন্নয়ন ভাবনার প্রশংসা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিঞ্জরাপু রামমোহন নাইডু জানান, আজই তিনি বেহালা ফ্লাইং ক্লাব পরিদর্শন করছেন এবং সেখানে দ্রুত পাইলট প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়িত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যে ৮টি বিমানবন্দর
অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও বিমান পরিকাঠামো মজবুত করতে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে ৮টি বিমানবন্দর বা এয়ারস্ট্রিপ চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
হাসিমারা ও কলাইকুন্ডা
অতীতের সরকারগুলির সময় জমির জটিলতায় হাসিমারা ও কলাইকুন্ডা বিমানবন্দরের কাজ আটকে থাকলেও বর্তমান কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একযোগে উন্নয়নে গতি আনছে।
কলকাতায় দ্বিতীয় বিমানবন্দর: কলকাতার ক্রমবর্ধমান বিমান যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ (International Connectivity) দ্রুত বাড়াতে শহরের কাছে আরও একটি বিমানবন্দর গড়ে তোলার কথা ভাবছে কেন্দ্র।
জাতীয় লক্ষ্য: আগামী ১০ বছরে সারা দেশে ১০০টি নতুন বিমানবন্দর তৈরি বা আধুনিকীকরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই চুক্তি স্বাক্ষর ও যৌথ ঘোষণার ফলে পশ্চিমবঙ্গে বৈমানিক প্রশিক্ষণ, নতুন কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।