
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়েছেন বেশিরভাগ বিধায়ক, সাংসদ। তাঁদের বেশিরভাগই কি ফের মমতার হাত ধরতে চাইছেন? এই জল্পনা বাড়িয়ে দিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। রবিবার তিনি দাবি করলেন, অনেক বিধায়ক, সাংসদ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কিন্তু, এখনই কেন তাঁদের সামনে আনা হচ্ছে না, এদিন তার ব্যাখ্যা দিলেন কুণাল। একইসঙ্গে জানিয়ে দিলেন, কাদের ফেরত নেওয়া হবে না। অনুব্রত মণ্ডলের ‘গুড় বাতাসা’ মন্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গেলে বেলেঘাটার বিধায়কের কণ্ঠে।
কী বললেন কুণাল ঘোষ?
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল বলেন, “যাঁরা চলে গিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই যোগাযোগ রাখছেন। সেটা সাংসদ হতে পারেন, বিধায়ক হতে পারেন। সকলে সমানভাবে খারাপ নন। বিধায়কদের মধ্যে ৮-১০ জন রয়েছেন, যাঁরা চুরি, ডাকাতি, অসভ্যতা এগুলো ঢাকতে গিয়েছেন। কয়েকজন পুরনো মামলার ভয়ে গিয়েছেন। আবার কয়েকজনকে ভিত্তিহীন মামলায় হয়রানি করার থ্রেট করা হচ্ছে। ফলে সেই ভয়ে গিয়েছেন।”
এরপরই তিনি বলেন, “আবার কয়েকজন আমাদের সঙ্গে পুরোদস্তুর যোগাযোগ রেখেছেন। হয়তো কয়েকজন আমাদের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করছেন। আবার কয়েকজনকে আমরা এখনই সামনে আনছি না দুটো কারণে। একটা কারণ হচ্ছে, আমরা তো পুলিশের নিরাপত্তা দিতে পারব না। আজকে হয়তো আমার পাশে বসিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলাম। কালীঘাটে গিয়ে দিদিকে প্রণাম করে এলেন। তারপর তাঁর এলাকায় যদি কোনও সমস্যা তৈরি হয়, আমাদের পক্ষে নিয়মিত নিরাপত্তা দেওয়া অসম্ভব। কারণ, পুলিশ বিজেপির কথা শুনবে। সেটা সাংসদদের ক্ষেত্রেও একই। তাঁরা যোগাযোগ করছেন। এছাড়া আপাতত তাঁরা ওদিকে থেকে গেলে আমাদের সুবিধা, আমরা ওখানকার খবরগুলো পাচ্ছি।”
‘গুড়-বাতাসা দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে’-
মমতার হাত ছেড়ে চলে যাওয়া কোন নেতাদের ফেরত নেওয়া হবে না, এদিন তা-ও স্পষ্ট করে দিলেন কুণাল। কারও নাম না নিয়েই বলেন, “তবে বিশেষ ৫-৬ জন যাঁরা এতবড় অসভ্যতা করেছেন। কালীঘাটের ত্রিসীমানায় যদি দেখা যায়, তাহলে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের আবেগ একদম গুড়-বাতাসা সহ আপ্যায়ন করা হবে।” একসময় বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত ওরফে কেষ্ট মণ্ডলের মুখে শোনা যেত গুড়-বাতাসার কথা। সেটাই এবার কুণালের কণ্ঠে শোনা গেল।
কুণালকে জবাব ঋতব্রত তৃণমূলের-
কুণালের মন্তব্যের জবাবে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কুণালবাবু সবসময় যেটা চেষ্টা করেন, সেটা হচ্ছে, সকাল থেকে কোনও একটা বিতর্কিত মন্তব্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে থাকা। এরকম প্রায়ই করেন। উল্টে আমার মনে হয়, কুণালবাবুদের সঙ্গে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। আসলে এই ধরনের মন্তব্য করে উনি নিজেকে ভাসিয়ে রাখতে চান।”