
কলকাতা: হুগলির শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার অনুমতি নিয়ে ঝুলে রইল মামলা। শুক্রবার মমতার সভার অনুমতির বিষয় নিয়ে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ কোনও সিদ্ধান্ত নিল না। একক বেঞ্চে মামলা ফেরাল ডিভিশন বেঞ্চ। এবার তৃণমূল সুপ্রিমোর কর্মসূচির ভাগ্য নির্ধারণ করবে একক বেঞ্চ। মাহেশ জগন্নাথ মাঠ কর্তৃপক্ষের আবেদন বিবেচনা করে নতুন করে একক বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেবে। একক বেঞ্চকে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করতে এদিন অনুরোধ করেছে প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চের।
শ্রীরামপুরে এদিন মমতার সভার অনুমতি নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চ কী নির্দেশ দেয়, সেদিকে সকলের নজর ছিল। এদিন শুনানির শুরুতে রাজ্য সরকারের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়, জলকল মাঠে সভা করুন মমতা। হাজার জনের জমায়েতের কথা বলা হয় রাজ্যের তরফে। জিটি রোড থেকে ৭০০ মিটার দূরে রয়েছে এই মাঠ।
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য এদিন শুনানিতে বলেন, মাহেশ জগন্নাথ মাঠে সভার অনুমতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দিলে রাজ্যের আপত্তি নেই। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ মাঠে সভার অনুমতি দিচ্ছে না।
বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী বলেন, জিটি রোড থেকেই যদি মাঠে ঢুকতে হয়, তাহলে তো সেই জিটি রোডের ট্র্যাফিকে চাপ পড়বে। আবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে বলেন, মাহেশ জগন্নাথ মাঠে সভার অনুমতি দিয়েছিল একক বেঞ্চ। তাঁর প্রশ্ন, অথচ সেই মাঠ কর্তৃপক্ষ মামলায় অন্তর্ভুক্ত নয়? তারপরই প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে বলেন, আপিল মামলায় ডিভিশন বেঞ্চে মাহেশ জগন্নাথ মাঠ কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানাচ্ছে। কেন মাঠ কর্তৃপক্ষ একক বেঞ্চে গিয়ে সভার অনুমতি নিয়ে নির্দেশের পুনর্বিবেচনা চাইছে না?
অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য তাঁর সওয়ালে বলেন, “কমপক্ষে ১৫ বার বলেছি ব্যক্তি মালিকানার মাহেশ জগন্নাথ মাঠে পুলিশ সভার অনুমতি দিতে পারে না। যতক্ষণ না মাহেশ জগন্নাথ মাঠ কর্তৃপক্ষ সভার জন্য অনুমতি দিচ্ছে। আমার সওয়াল রেকর্ড করতেও অনুরোধ করেছি একক বেঞ্চকে।”
অন্যদিকে, তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যের আপিল মামলা ত্রুটিযুক্ত। এই আপিল মামলা খারিজ করে দিক আদালত।” তারপরই তিনি যুক্তি দেন, “শ্রীরামপুর জিটি রোডের উপর অসংখ্য মিছিল হয়েছে। বিজেপি বিভিন্নি কর্মসূচির নামে সম্প্রতি মিছিল করেছে। সংকল্প সভা, হর ঘর তিরঙ্গা, স্নান যাত্রা একাধিক মিছিল করতে দিয়েছে পুলিশ। প্রচুর রাজনীতিবিদ উঠে এসেছেন শ্রীরামপুর থেকে। শুধু আমাদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।”
প্রধান বিচারপতি বলেন, “মাহেশ মাঠে সভা নিয়ে বিতর্ক। অথচ তাদের কোনও বক্তব্যই নেই একক বেঞ্চের নির্দেশে।” তখন মাহেশ জগন্নাথ মাঠ কর্তৃপক্ষের তরফে আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী বলেন, “প্রধান বিচারপতি বেঞ্চের পরামর্শ মেনে আমরা একক বেঞ্চে রায়ের পুনর্বিবেচনা চাইতে পারি। যদি আদালত মনে করে মামলা একক বেঞ্চে ফেরত পাঠিয়ে দেবে।”
বিভিন্ন পক্ষের সওয়াল শোনার পর মামলাটি ফের একক বেঞ্চে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। এখন একক বেঞ্চ কী নির্দেশ দেয়, সেটাই দেখার।