
কলকাতা: এসআইআর-এর ছেড়ে এখন রাজ্য বনাম কেন্দ্রের ‘সংঘাতে’ নতুন টপিক ‘রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান’ বিতর্ক। দুুপক্ষই এখন আদিবাসী নেতৃত্বে সামনে রেখে লড়াই করছেন। এরই মধ্যে মেট্রো চ্য়ানেলের ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই উত্থাপন করলেন আরও একটি প্রসঙ্গ। প্রশ্ন তুললেন, রাজ্যপালের থাকার কথা ছিল, হঠাৎ কেন ইস্তফা?
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “রাজ্যপাল এবং ধনখড় কেন পদত্যাগ করেছেন? তদন্ত হবে নাকি । আমাদের সিআইডি কে দিন।” আর কথা সূত্রে বলেন, “কাজের সময় কাজী, কাজ ফুরালেই পাজি । আমাকে অনেক অসুবিধা করেছিলেন । কিন্তু আমি সৌজন্য রাখতাম।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আনন্দ বোসের তো ওইদিন রাষ্ট্রপতিকে রিসিভ করার কথা ছিল । হঠাৎ ডেকে নিয়ে ভয় দেখিয়ে রিসাইন করালেন কেন? ‘ইয়েস ম্যান’ বসাবেন বলে?”
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ‘অসম্মান’ নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে এখন ময়দানে বিজেপি। পাল্টা তৃণমূলও রাষ্ট্রপতিকে ‘রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার’ করার অভিযোগ তুলে আক্রমণ শানাচ্ছে। এই বিতর্কেই মাঝেই মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২০ মাস আগেই সিভি আনন্দ বোসের আচমকা পদত্যাগ বঙ্গ রাজনীতিতে আরও একটা নয়া সমীকরণ তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতিকে চিঠি মারফত তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। কেন তিনি ইস্তফা দিলেন, তার আসল কারণ নিয়ে জল্পনা রয়েই গিয়েছে।
আর সেই জল্পনা আরও উস্কে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন রাজ্যপাল পদ থেকে মেয়াদ শেষের আগেই ইস্তফা দিলেন বোস, তা নিয়ে সিআইডি তদন্তের কথাও উল্লেখ করলেন।
তবে তিনি ধনখড়ের কথাও উল্লেখ করেছেন। জগদীপ ধনখড় অবশ্য তাঁর মেয়াদ শেষের আগে রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দেননি। ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলার রাজ্যপালের পদে ছিলেন। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ২০২২ সালের জুলাই মাসে রাজ্যপাল পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পদে থাকাকালীন দুই রাজ্যপালের সঙ্গেই রাজ্যের সংঘাত চরমে ওঠে। বোসের সঙ্গে প্রথমে অম্ল মধুর সম্পর্ক থাকলেও তিক্তকা বাড়ে উপাচার্য নিয়োগ ঘিরেই। কিন্তু এবার তাঁর ইস্তফা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন মমতা।