
কলকাতা: ফাঁকা-নির্জন রাস্তা। তার মধ্য়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটা মিনি ট্রাক, যেগুলি ছোটা হাতি নামেই পরিচিত। ওখানেই জটলা করে ছিল তিনজন মিলে। জলের মধ্য়ে মেশাচ্ছিল কী একটা সাদা গুড়োর মতো। এই দেখেই সোজা গিয়ে হাতেনাতে ধরল পুলিশ।
বড় সাফল্য পেল ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। ভেজাল দুধ তৈরির সরঞ্জাম সহ গ্রেফতার করা হল তিনজনকে। কালিতলা-আশুতি এলাকা থেকে তিনজন গ্রেফতার করা হয়েছে। কীভাবে তাদের হদিস পেল পুলিশ?
গোপন সূত্রে খবর পেয়েই ডায়মন্ড হারবার জেলার কালিতলা-আশুতি থানার পুলিশ অভিযান চালায় আজ ভোরে। দেখা যায়, ঠাকুরপুকুর থেকে কালাগাছিয়া যাওয়ার পথে কালিতলা-আশুতি খালের কাছে একটি নির্জন রাস্তায় একটি ‘ছোটা হাতি’ (মিনি-ট্রাক) দাঁড়িয়ে। তিনজন মিলে ৩৪টি দুধের পাত্রের মধ্যে জলের মধ্যে একটি সাদা গুঁড়ো মেশাচ্ছিলেন, যা দেখতে হুবহু আসল দুধের মতো।
জানা গিয়েছে, এই ভেজাল দুধ শহরের বিভিন্ন ডেয়ারি ফার্মে সরবরাহ করা হচ্ছিল, যেখানে এটি আসল দুধের সঙ্গে মিশিয়ে পরে শহরতলিতে বিতরণ করা হত। পুলিশ ওই তিনজনকে আটক করেছে এবং ৩৪টি পাত্র বাজেয়াপ্ত করেছে। প্রতিটি পাত্রের ধারণক্ষমতা ৪০ লিটার। এর সঙ্গে সাদা গুঁড়ো এবং বেশ কয়েকটি ছোট প্লাস্টিকের প্যাকেটও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃত ব্যক্তিরা হলেন কার্তিক ঘোষ (৩২), আমনুদ্দিন ঢালি (২৮) এবং রামিজ জমাদার (২৫)। আগামিকাল তাঁদের আলিপুর আদালতে হাজির করা হবে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা শহরের বিভিন্ন গোয়ালঘরে এই ভেজাল দুধ সরবরাহ করত। তবে এই মিশ্রণটি তৈরিতে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থগুলো কী কী এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এটা কতটা ক্ষতি করতে পারে, তা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।