
কলকাতা: কোনও বেআইনি নির্মাণ হবে না, সরকারের জায়গা দখল করে রাখা যাবে না। পরিস্কার ঝকঝকে-তকতকে রাস্তা থাকবে। এই নির্দেশ আগেই দিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। সেই কারণে যথাযখ পদক্ষেপও করছেন তিনি। বেআইনি নির্মাণ সরানো থেকে শুরু করে অবৈধ দখলদারি, সবটাই একেবারে ময়দানে নেমে খতিয়ে দেখছেন। সম্প্রতি, ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে এক ফুটপাথবাসী মহিলাকে সরে যেতে বলেছিলেন অগ্নিমিত্রা। ওই মহিলা ব্যস্ত রাস্তার মধ্যে স্টোভ জ্বালিয়ে দুধ গরম করছিলেন শিশুর বলে দাবি তাঁর। মন্ত্রী সেই মহিলাকে সরে যেতে বলেন সেখান থেকে। আর সেই ভিডিয়ো ব্যাপক ভাবে ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিরোধীরা কটাক্ষ করতে শুরু করে। অবশেষে সেই নিয়ে মুখ খুললেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা। এত বছর ধরে বিরোধীরা কেন উন্নয়ন করেননি সেই প্রশ্ন ছুড়লেন মন্ত্রী। সঙ্গে ঝুপড়িবাসীদের জন্য সরকার যে পদক্ষেপ করতেও শুরু করেছে সেই বিষয়টিও জানালেন।
অগ্নিমিত্রা বলেন, “বিরোধীদের কান্নাকাটি শুনলাম। কেউ সেদিন একবাটি দুধ নিয়ে এগিয়ে যায়নি এই পরিবারের কাছে। সকলে রাজনীতির আগুনে রুটি সেকেছে। ২৮ বছর কংগ্রেস, ৩৪ বছর সিপিএম, ১৫ তৃণমূল মানুষকে ঠকিয়েছে। পয়সা নিয়ে ফুটপাথে হকার বসিয়েছে, দুর্নীতি করেছে তাদের থেকে মানবিকতা শিখব না।”
রাজ্যের মন্ত্রীর প্রশ্ন, “ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের মতো ব্যস্ত রাস্তায় সারাদিন গাড়ি যাচ্ছে। সেখানে ছমাসের বাচ্চা হামাগুড়ি দিচ্ছে। আশপাশে কেউ ছিল না। দূরে তার মা-ঠাকুমা। দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে? মুখ্যমন্ত্রী না সরকার না বিরোধীরা? আজ ফুটপাথে এক গামলা দুধ জাল দেওয়া হচ্ছে, এক গামলা দুধ ছ’মাসের বাচ্চা খাবে? আর স্টোভে আগুন জ্বালানো হয়েছে ব্যস্ত রাস্তায়? যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটবে। কে দায় নেবে?”
তিনি বুঝিয়ে বলেন, “আমরা মানবিক। আমাদের সরকার মানবিক। বিরোধীদের থেকে মানবিকতা শিখব না। এই ঘটনার পাঁচদিন আগেই মিটিং হয়েছে। সেখানে ঝুপড়ি উন্নয়ন নিয়ে কথা হয়েছে। আর এই পরিবারকে আগেও বলা হয়েছে, নিজের বাড়ি চলে যান। উনিই তো বলছেন ধাপায় থাকেন। তাহলে পার্কস্ট্রিটের ফুটপাথে কেন জাল দিচ্ছেন?”
অগ্নিমিত্রার দাবি, এই মহিলার ছেলেকে চুরির করার দায়ে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর ফুটপাথ না বড়লোকের, না গরিবের। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে এটা সাধারণ মানুষের। তাই ফুটপাথ মানুষের চলাফেরার জন্য ফ্রি রাখতে হবে। মানুষ পরিচ্ছন্ন শহর চায়।”
রাজ্যের মন্ত্রী বলেন, “বিরোধীদের অসুবিধা হচ্ছে বেআইনি পার্কিং সরানো নিয়ে,ফুটপাথ নিয়ে অসুবিধা নিয়ে।” তিনি এও বলেন, “বিনিয়োগ কর্মসংস্থানের কথা হচ্ছে। প্রথমে দর্শনধারী, বাদমে গুণ বিচারি। বিদেশের ছাড়ুন, দেশের কোনও বিনিয়োগকারী এসে দেখেন যে অবস্থায় ফুটপাথ রাস্তা, ফ্লাইওভার নেই, যানজট, তাহলে আসবে কোনও বিনিয়োগকারী?” তাঁর সংযোজন, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছে ১০ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত রাস্তা আমরা ঠিক করে দেব। আজ ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। বিরোধীরা এতদিন কেন কর্মসংস্থান দেননি? এটাই বলার বিশাল জনসমর্থন নিয়ে এসেছি কাজ করবই।“