
কলকাতা: চোখের চিকিৎসায় বিদেশ যেতে চেয়ে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) পর্যন্ত চলে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শীর্ষ আদালত ফের সেই মামলা পাঠায় কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। বুধবার শুনানির সময় বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল, SSKM-এ হাসপাতালে চোখ দেখাতে হবে TMC সাংসদকে। এ দিকে, এসএসকেএম-এ চোখ দেখাতে নারাজ অভিষেক। আর সাংসদের চোখের চিকিৎসায় বিদেশ যাওয়ার আর্জিকে তীব্র কটাক্ষ রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের (Agnimitra Paul)। মন্ত্রীর পরামর্শ, অভিষেককে তাঁদের সরকার যথাযথ স্বাস্থ্যে সুবিধা দেবে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের আওতায়।
বুধবারের আদালতের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, “আদালত বাংলার মানুষের কথা বুঝতে পেরেছে।” তারপর তৃণমূল আমলে কীভাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, সেই কথা ফের একবার মনে করিয়ে তিনি বলেন, “আজ স্বাস্থ্য-সাথী কার্ড করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাদা-নীল রং করে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল করে দিয়েছেন। সেখানে যদি বাংলার ১১ কোটি মানুষ চিকিৎসা করা পারবেন, তাহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যুবরাজ চিকিৎসা করাতে পারবেন না বিদেশ যেতে হবে?” তিনি আরও বলেন, ” একটা বিছানায় দুই তিনজন রোগী চিকিৎসা করাবে। পনেরো বছরে স্বাস্থ্যের কোনও উন্নতি করতে পারলেন না, মানুষ ওষুধ পাচ্ছে না এত কিছুর পর আপনি চিকিৎসা করাতে বিদেশে চলে যাবেন?কখনই নয়।”
এরপর কার্যত ব্যঙ্গ করে অগ্নিমিত্রা বলেছেন, “আমরা আয়ুষ্মান ভারত করে দেব। আপনার জন্য সিঙ্গেল বেডের ব্যবস্থা করে দেব কারও সঙ্গে শেয়ার করতে হবে না। আর আপনার ওই সেবাশ্রয়ে হোমিওপ্যাথি ডাক্তার অ্যালোপ্যাথি ওষুধ দিয়ে পা কাটা গিয়েছে অন্তত তেমনটাও হবে না।”
বুধে মামলা চলাকালীন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের মন্তব্য ছিল, যেহেতু অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ঝুলছে সেই কারণেই সমস্যা। তিনি বলেন, “বিদেশ কিংবা দেশ, আজকের দিনে চিকিৎসাক্ষেত্রে ম্যাটার করে না।” পরে প্রত্যাহার হয়ে যায় মামলা।