
কলকাতা: বিধানসভায় মাদ্রাসা প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেন মোথাবাড়ি বিধানসভার বিধায়ক ইসলাম মহম্মদ নজরুল। মঙ্গলবার বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনা ছিল। সেখানেই তিনি মাদ্রাসায় ঠিক কী হয়, তার বিবরণ দেন। বিধায়কের দাবি, এই মাদ্রাসা থেকেই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উত্থান হয়েছে। কিন্তু মাদ্রাসা নিয়ে সম্প্রতি একটি আলাদাই ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে। কয়েকজন বিধায়ক, সাংসদ, মন্ত্রী তৈরি করছেন।
মহম্মদ নজরুল বলেন, “এই বিষয়টির ওপর উল্লেখ বলি, সংবিধানের ২৫-২৮ নম্বর ধারা স্পষ্ট বলা হয়েছে. ভারতের প্রত্যেকটি ধর্মীয় কালচার কীভাবে পালন হবে, তা নিজস্ব স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু লক্ষ্য করা গিয়েছে, মাদ্রাসা নিয়ে আলাদা একটা ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে। কয়েকজন মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এই প্রচার করছেন। অনেকে বলছেন, মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া উচিত।”
সেই কথা প্রসঙ্গেই তিনি বলেন মাদ্রাসা ও তার কার্যবিবরণী বর্ণনা করেন তিনি। তাঁর কথায়, মাদ্রাসা আরবি শব্দ, বাংলা পাঠাগার বা বিদ্যালয়। এখানে বাংলা, ইংরাজি, কম্পিউটার, বিজ্ঞানের পাশাপাশি অনুরূপ একটি ধর্মীয় শাস্ত্র পড়ানো হয়। তিনি বলেন, “এই মাদ্রাসা থেকেই উঠে এসেছে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ। তিনি ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী। ১৮৬৬ সালের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা থেকেই ইংরেজ দেশে থেকে তাড়ানোর আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল। সেখান থেকেই স্বাধীনতা সংগ্রামী শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান উঠে এসেছিলেন। সিল্ক লেটার মুভমেন্ট আন্দোলন করেছিলেন। পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর বই পড়ে নিতে অনুরোধ করব, নেতাজির বই পড়ে নিতে অনুরোধ করব, মাদ্রাসার কী অবদান রয়েছে দেশে।”
নতুন সরকার মূলত ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধ করা হয়েছে। জুন মাস থেকে মাদ্রাসাগুলি আর কোনও ভাতা পাচ্ছে না। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, মাদ্রাসা বিষয়ক দফতর, সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের মধ্যে ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের যে সমস্ত প্রকল্প রয়েছে, তা বন্ধ করা হল। ধর্মের শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে সহায়তামূলক প্রকল্প বলে যে যে ভাতা চালু ছিল, তা বন্ধ হয়ে যায় নতুন সরকারের আমলে। সংখ্যালঘু উন্নয়নমন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু স্পষ্ট বলে দিয়েছে, ‘সমস্ত অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধ করা হবে।’
রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও বলেছেন, “মাদ্রাসাগুলিতে পড়াশোনা কেমন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। বিধানসভায় যখন বিরোধী দলে ছিলাম, তখনও বলেছি, মাদ্রাসায় ৫৭১৩ কোটি টাকার যে অনুদান দেওয়া হচ্ছে, তাতে কতজন ছেলেমেয়ে তার সাহায্য পাচ্ছে? কতগুলো ছেলেমেয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী আইএফএস, আইআরএস হচ্ছে, তা দেখা দরকার। টাকাগুলো কোথায় যাচ্ছে, মাদ্রাসায় আধুনিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা দেখা দরকার।” সেখানে দাঁড়িয়ে বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই মাদ্রাসা প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেন মোথাবাড়ির সংখ্যালঘু বিধায়ক।