
কলকাতা: ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা! আর সেই পরিমাণটা মোটেই কম নয়। এত টাকা উদ্ধার হয়েছে ডায়মন্ড-হারবার লোকসভা কেন্দ্র, যেখানের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সেইখানেরই মমতা তৃণমূলের একটি পার্টি অফিস থেকে। খোদ ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক মজুমদার এই নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন। এত টাকা কীভাবে এল? এই সব প্রশ্নের মধ্যেই মুখ খুললেন অভিষেক। জানিয়ে দিলেন, পরিকল্পিত ভাবে এত টাকা রাখা হয়েছে।
অভিষেক নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “ছ’মাস আগে বিজেপির দুষ্কৃতীদের হামলায় যে সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেটিই পুলিশের তদন্তে অপরাধস্থল হিসেবে চিহ্নিত হয়। সেই জায়গায় পরিকল্পিতভাবে ভুয়ো ও জাল প্রমাণ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এই ঘটনা ন্যায়বিচারকে বাধা দেওয়া, পুলিশি তদন্তকে প্রভাবিত করা এবং আইন-প্রশাসনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার এক নির্লজ্জ চেষ্টা।”
তিনি আরও লেখেন, “যাঁরা এই ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করেছেন এবং যাঁরা তাঁদের নির্দেশে এই কাজে যুক্ত হয়েছেন, তাঁদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিতে চাই, প্রমাণ জাল করা, তদন্তকে প্রভাবিত করা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিটি কাজের জন্য সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকতে হবে।” সাংসদের হুঁশিয়ারি, “রাজনৈতিক মদত, সরকারি পদ কিংবা পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ আইনের হাত থেকে রেহাই পাবেন, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।”
কী ঘটেছে?
বুধবার সরিষার একটি তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়েছিল। পার্টি অফিসটি মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদের বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই টাকার কথা পুলিশ জানতে পারে। আর তারপর তল্লাশি ও নগদ উদ্ধার।
এই ঘটনার পর নাম না করে অভিষেকরে আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, এই টাকাটা ভুল করে হয়ত রেখে গিয়েছে। তিনি বলেন, “এই টাকা নস্যি। এরা বেনামে জমি কিনেছে।”