
কলকাতা: ‘অর্ণব’-এর রেশ এখনও কাটেনি। এরই মধ্যে আরও একটা ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রুকুটি। দিনকয়েক আগে অর্ণব-এর তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায়। প্রভাব থেকে বাদ যায়নি বাংলাও। এবার আসছে ‘মুরাসু’। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে চলেছে আরও একটা ঘূর্ণিঝড়। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজই বঙ্গোপসাগরে জন্ম নিতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। তবে, এবার অভিমুখ কোন দিকে? বাংলার আকাশেই কি দুর্যোগের মেঘ ঘনাচ্ছে? আর যে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এত আলোচনা, জানেন তার নামের অর্থ? কোন দেশই বা নামকরণ করেছে? জেনে নেওয়া যাক।
এবারও ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ থাকবে অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে। অর্থাৎ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ অর্থাৎ রবিবার বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। আগামী মঙ্গলবার সকালে তা অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। নেলোর ও নরসাপুরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলাঙ্গানায়।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মুরাসু-র প্রভাবে বাংলায় বড়সড় দুর্যোগের আশঙ্কা নেই। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তবে, কোথায় কোথায় বৃষ্টি হবে, সেই বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।
বঙ্গোপসাগরে এবং আরব সাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে থাকে ১৩টি দেশ। সেই তালিকায় রয়েছে ভারত,বাংলাদেশ, ইরান, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, মলদ্বীপ, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, ওমান,সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইয়েমেন ও থাইল্যান্ড। মোট ১৩টি নামের প্রস্তাব দেওয়া হয়। গতবার অর্থাৎ অর্ণব-এর নামকরণ করেছিল বাংলাদেশ। এবার ‘মুরাসু’-র নামকরণ করেছে ভারত।
‘মুরাসু’ নামটি এসেছে তামিল ভাষা থেকে। মুরাসু হল এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র, যা মূলত ঢোল বা যুদ্ধের ঢোল হিসেবে ব্যবহৃত হত। প্রাচীনকালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সতর্কবার্তা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খবর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেও এই বাদ্যযন্ত্র বাজানো হত।