
কলকাতা: বাংলার সাধারণ মানুষের বাড়িতে জোর করে বা বাধ্যতামূলকভাবে স্মার্ট মিটার বসানো হবে না বলে বিধানসভায় (West Bengal Assembly) ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে স্মার্ট মিটার বসবে। কিন্তু সেটা সরকারি অফিসে। সেপ্টেম্বর থেকেই এই স্মার্ট মিটার চালু হচ্ছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। ফলে সরকারি দফতরগুলিতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে তা বলাই যায়। প্রায় ৪৪ হাজার সরকারি অফিসে চালু হয়ে যাবে এই প্রিপেড স্মার্ট মিটার। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে মিটার বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার (WBSEDCL) লক্ষ্য, ৩১ অগস্টের মধ্যে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা।
মূলত, সরকারি দফতরগুলিতে বিদ্যুতের খরচ এবং বিল পরিশোধের প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকারকে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সমস্ত সরকারি দফতরে এই প্রিপেড স্মার্ট মিটার চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির প্রধান, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ৪৪ হাজার সরকারি অফিসে এই ব্যবস্থা চালু হলেও, রাজ্যে সরকারি দফতর ও অফিসের মোট সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার। সরকারের পরিকল্পনা, ধাপে ধাপে সমস্ত সরকারি অফিসকেই প্রিপেড স্মার্ট মিটারের আওতায় নিয়ে আসা। অর্থাৎ, শেষ পর্যন্ত ১০০ শতাংশ সরকারি দফতরেই এই ব্যবস্থা কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন ব্যবস্থায় সরকারি অফিসগুলির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের মোবাইল নম্বর WBSEDCL-এর পোর্টালে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ওই নম্বরেই বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠানো হবে। এর মধ্যে বকেয়া বিলের পরিমাণ, বিল জমা দেওয়ার শেষ তারিখ-সহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য জানানো হবে। যে সব সরকারি অফিস বর্তমানে WBSEDCL-এর পোস্টপেড সংযোগ ব্যবহার করছে এবং যাদের সংযোগের অনুমোদিত লোড ৫০ কিলোওয়াটের মধ্যে, মূলত সেই সংযোগগুলির ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
প্রিপেড ব্যবস্থায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসগুলিকে একটি শেষ পোস্টপেড বিল দেওয়া হবে। বিল তৈরির তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেই বিলের টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে খবর নবান্ন সূত্রে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া মেটানো না হলে পরবর্তী সময়ে প্রিপেডের বিলের সঙ্গে তা যুক্ত করে নেওয়া হবে।
এদিকে, বহু সরকারি অফিসে এখনও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের মোবাইল নম্বর WBSEDCL-এর পোর্টালে নথিভুক্ত হয়নি বলে খবর উঠে আসছে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে দ্রুত সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল নম্বর নথিভুক্ত করার পদ্ধতিও দফতরগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থার আর্থিক দক্ষতা বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে কেন্দ্রের ‘রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টর স্কিম’ (RDSS)-এর আওতায় এই ধরনের প্রিপেড স্মার্ট মিটার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশিকা মেনেই সরকারি অফিসগুলিতে ধাপে ধাপে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ চলছে।