
প্রদীপ্তকান্তি ঘোষ
কলকাতা: ‘খাম’ প্রতীক কার? বাংলার দুই আসনে উপনির্বাচনের আগে এই নিয়ে শুরু হল নতুন টানাপোড়েন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও ‘খাম’ প্রতীকে লড়েছে আইএসএফ। কিন্তু, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনে সেই খাম প্রতীক-ই হারাতে হচ্ছে তাদের। খাম প্রতীক ঋতব্রতদের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে উপনির্বাচনে খাম প্রতীকে লড়ার সুযোগ পাচ্ছে না আইএসএফ। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।
একুশ সালে রাজনীতির ময়দানে আত্মপ্রকাশ ঘটে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (ISF)। একুশের বিধানসভা ভোট, চব্বিশের লোকসভা ভোট এবং ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে খাম প্রতীকেই লড়েছে আইএসএফ। তাহলে এই দুই আসনে উপনির্বাচনে কেন তারা খাম প্রতীক পেল না? ওয়াকিবহাল মহল বলছে, আইএসএফ রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দল হলেও রাজ্য কিংবা জাতীয় দল হিসেবে কমিশনের স্বীকৃতি এখনও পায়নি। ফলে তাদের প্রতীক নির্দিষ্ট হয় না। এক্ষেত্রে কমিশন ঋতব্রত শিবিরকে খাম প্রতীক দিতেই পারে। আইএসএফকে অন্য প্রতীক বেছে নিতে হবে।
আইএসএফ সমর্থকদের কাছে খাম প্রতীক পরিচিত। প্রশ্ন উঠছে, ভোটের সময় এই নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালে কী হবে? এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত বলেন, “যদি নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ পৌঁছায় এবং ভোটারদের মধ্যে এই নিয়ে বিভ্রান্তি হলে, তাহলে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে কারও ক্ষোভ থাকলে, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে।”
তাঁরা যে আদালতের দ্বারস্থ হবেন, তা বুঝিয়ে দিলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। বললেন, “আমরা নন্দীগ্রামে ইতিমধ্যে প্রার্থী দিয়েছি। কমিশনের কাছে সব তথ্য পৌঁছে দিয়েছি। তার পরও কমিশন কী করে এই প্রতীক দিচ্ছে, এটাই প্রশ্ন। এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করব। এই নিয়ে কমিশনকে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছি।”
খাম প্রতীক নিয়ে পাল্টা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “এটা কারও নির্দিষ্ট প্রতীক নয়। রেজিস্টার্ড অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলের তালিকা রয়েছে। আইএসএফের থেকে আমাদের সংখ্যা অনেক বেশি। আমরা চেয়েছিলাম। পেয়েছি। তার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ।”
এদিকে, হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও রেজিনগরে বাঁশি প্রতীক পাচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, তাদের টেবিল চিহ্ন প্রতীক হিসেবে দেওয়া হতে পারে।