Nandigram: ‘মুখ্যমন্ত্রীর আর্শীবাদ চাইছি’, কলকাতা থেকে উড়ে সটান নন্দীগ্রামে ঋতদের সংখ্যালঘু প্রার্থী ‘হকদা’

Nandigram by-election: TV9 বাংলার সাক্ষাৎকারে এহতেশামুল হক বলেন, "২০১৭ সাল থেকে আমি সক্রিয় রাজনীতি করছি।" তাঁর কলকাতায় বাড়ি। তাহলে প্রশ্ন, তিনি কি 'বাইরে' থেকে গিয়ে নন্দীগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন? এই প্রশ্নে ঋতব্রতদের প্রার্থী বলেন, "কোথায় বাইরের? আমি তো এখানকার মানুষ। কলকাতার ভূমিপুত্র। নন্দীগ্রামে আত্মীয়স্বজন। বাংলাজুড়ে আত্মীয়স্বজন আছে।"

Nandigram: মুখ্যমন্ত্রীর আর্শীবাদ চাইছি, কলকাতা থেকে উড়ে সটান নন্দীগ্রামে ঋতদের সংখ্যালঘু প্রার্থী হকদা
ঋত-তৃণমূলের প্রার্থী এহতেশামুল হকImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Sep 14, 2026 | 8:11 PM

কলকাতা: উপনির্বাচনেও যেন হটসিট নন্দীগ্রাম। রবিবার সন্ধ্যায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে একেবারে চমক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে কেন্দ্রে নাকি তিনিই প্রার্থী হতে পারেন বলে বিস্তর জল্পনা চলেছে গত কয়েকদিন বঙ্গ রাজনীতিতে, সেখানে দাঁড়িয়ে একেবারে নতুন মুখকে হাতিয়ার করলেন মমতা। প্রার্থী করলেন চাকরিহারা শিক্ষিকা সঞ্চিতা প্রধান দে-কে। সোমবার বেলায় প্রার্থী ঘোষণা করল ঋত-শিবির। সেখানেও নন্দীগ্রামের প্রার্থীর ক্ষেত্রে বড় চমক। নন্দীগ্রামে ঋত-তৃণমূলের প্রার্থী এহতেশামুল হক।

এহতেশামুল হকের পরিচিতি

কিন্তু কে তিনি? নন্দীগ্রামের প্রার্থী যে মুহূর্তে ঘোষণা করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, তখনই নন্দীগ্রাম জুড়ে শুরু হয়ে যায় চর্চা। কারণ এই নামে তো কোনও নেতাকেই চিনতে পারছেন না জেলা নেতৃত্ব। সাংবাদিকদের প্রশ্নেও ঢোক গিলতে হচ্ছে তাঁদের।আসলে এহতেশামুল হক কলকাতার বাসিন্দা। একেবারে কলকাতা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে সটান নন্দীগ্রামে তাঁকে প্রার্থী করেছেন ঋতব্রতরা। তবুও প্রশ্ন থাকছে কে তিনি? তৃণমূলে তাঁর পরিচিতি কতটা?

‘নন্দীগ্রামে ভূমিপুত্র নই, তবে বাইরেরও নই’

TV9 বাংলার সাক্ষাৎকারে এহতেশামুল হক বলেন, “২০১৭ সাল থেকে আমি সক্রিয় রাজনীতি করছি।” তাঁর কলকাতায় বাড়ি। তাহলে প্রশ্ন, তিনি কি ‘বাইরে’ থেকে গিয়ে নন্দীগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন? এই প্রশ্নে ঋতব্রতদের প্রার্থী বলেন, “কোথায় বাইরের? আমি তো এখানকার মানুষ। কলকাতার ভূমিপুত্র। নন্দীগ্রামে আত্মীয়স্বজন। বাংলাজুড়ে আত্মীয়স্বজন আছে। ওখানে সবার জন্য প্রচারে গিয়েছি। বাইরের তো কোনও ব্যাপারই হচ্ছে না। আমি কলকাতায় থাকি। কিন্তু, ওখানে আত্মীয় স্বজন আছে।” তৃণমূলে তাঁর পরিচিতি কতটা? তিনি নিজেই বললেন, “আমি ২০১৭ সাল থেকে রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ভোটে সবার জন্য প্রচার করেছি।”

‘মুখ্যমন্ত্রীর আর্শীবাদ চাই’

নন্দীগ্রামের মতো  বাংলার গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী করায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। ধন্যবাদ জানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরূপ রায়দেরও। পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর আর্শীবাদ নিয়ে লড়তে চাই।’ তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, উনি সবাইকে ভালোবাসেন। আমাকেও নিশ্চয় আশীর্বাদ করবেন। আমি তাঁর ছোট ভাইয়ের মতো।” তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি প্রার্থী হতেন, তাহলে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতেন না বলেও জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হলে আমি নাম প্রত্যাহার করব।”

জিতবেন বলে আশাবাদী তিনি। বললেন, “বিজেপির সঙ্গে আমাদের লড়াই হবে। আশা করছি, নন্দীগ্রামের মানুষ আমাদের ভোট দেবেন।” কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি বললেন, “গণতন্ত্রে সবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার আছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। কিন্তু, আমাদের নেতারা মাঠে নেমে যেভাবে কাজ করছেন, তাতে আমরা নিশ্চয় নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে জয়লাভ করব।” নন্দীগ্রামবাসীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “আমি তো বাইরের নই। হতে পারে নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র নই। কিন্তু আমি তো এখানকার লোক। সংখ্যালঘু মানুষদের বলব ভোট ভাগ করবেন না। আমায় দিন।”

ঋতদের কৌশলী চাল?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে,  নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়ে কৌশলী চাল দিল ঋতব্রত শিবির। নন্দীগ্রামের ব্লক ১ সাধারণত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। পরিসংখ্যান বলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই এই ব্লক থেকে সর্বাধিক ভোট পেয়েছেন। যেখানে মমতাপন্থী তৃণমূল হিন্দু প্রার্থী দাঁড় করিয়ে বিজেপির ঘর ভাঙার চেষ্টা করছে, সেই জায়গায় কি সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়ে কালীঘাটপন্থী ভোটব্যাঙ্ককে চিড় ধরানোর চেষ্টা? এই চর্চাই হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us