
কলকাতা: এবার রাজ্যের সব কটি স্কুল-কলেজগুলোতে NCC বাধ্যতামূলক করার পক্ষে সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাখিবন্ধনের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের কর্তব্যের মধ্যে থাকা উচিত, প্রত্যেকটা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা NCC করব। NCC কে ফিরিয়ে আনব।”
তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর কাছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলির স্কুল-কলেজে এনসিসি থাকার আবশ্যিকতার বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। সেই প্রসঙ্গেই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাংলায় এনসিসি বন্ধ করে ‘জয় হিন্দ বাহিনী’ নামে একটি বিকল্প ব্যবস্থা চালু করা ঠিক হয়নি, কারণ এনসিসির কোনও বিকল্প হতে পারে না।
ইতিমধ্যে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে গত রবিবার কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে চিঠি লিখেছেন বলেও জানান তিনি। রাজ্যের সব স্কুল-কলেজে দ্রুত এনসিসির সুযোগ সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তাঁর বক্তব্য, এই জাতীয় প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের মনে দেশমায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে।
এই কথা বলতে গিয়ে তিনি যে তাঁর ছাত্রজীবনে NSS করতেন, সেকথাও বলেন। তিনি বলেন, “আমি একজন প্রাক্তন NSS। আমাদের কলেজে তখন ইলেভন-টুয়েলভ ছিল। আমি ইলেভন থেকে থার্ড ইয়ার, পাঁচ বছরই NSS করতাম। NCC আমি করিনি। আমার কলেজে NCC ও ছিল। NCC অনেকেই করতেন। আবার কিছু জন করতেন NSS।”
ছেলেবেলার কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি NSS-এর হেড ছিলাম। বছরে দুর্গাপুজোয় লম্বা ছুটি থাকত। আমরা তখন পুরোপুরি ৮ দিনে গ্রাম বেছে নিতাম। একটা গ্রামে গিয়ে প্রাইমারি স্কুলে দুটো বেঞ্চ জুড়ে থাকার ব্যবস্থা করতাম, সবাই মিলে রান্না করে খেতাম-থাকতাম। ওই গ্রামের ভাঙা রাস্তা রিপায়ারিং, পুকুরের থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার, বার্থেনিয়ামের জঙ্গল সাফ করা, ব্লিচিং ফিনাইল দিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতাম। ন্যাশনাল সোশ্যাল সার্ভিস! আমি পাঁচ বছর ধরে গ্রামে গ্রামে করেছি।” আর এরপরই NCC প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এখনকার দিনে দাঁড়িয়ে কেন রাজ্যের প্রত্যেকটা স্কুলে NCC বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন, তারও ব্যাখ্যা দেন।