
কলকাতা: বিদ্যুতের অপচয় রুখতে তৎপর সরকার। এবার রাজ্যের সরকারি দফতরগুলিতে বিদ্যুতের অপচয় রুখতে স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার বসানোর কাজ শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি লিমিটেড (WBSEDCL)। পুরনো পোস্ট-পেইড ব্যবস্থা থেকে নতুন প্রি-পেইড ব্যবস্থায় রূপান্তরের সময় বিল জমার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ে বেশ কিছু বদল আসতে চলেছে। এই পরিবর্তনের সময় বকেয়া বিদ্যুৎ বিল কীভাবে মেটানো হবে, নতুন মিটারে রিচার্জের পদ্ধতি কী হবে, তা জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য। এ জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের অর্থ দফতর থেকে একটি নির্দেশিকাও জারি হয়েছে। আগামী ১ অগস্ট থেকে গোটা রাজ্যেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে।
পোস্ট-পেইডের সময়ের বকেয়া বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে সরকারি দফতর ও সংস্থাগুলিকে অর্থ দফতর মূলত দু’টি বিকল্প ব্যবস্থা করে দিয়েছে। প্রথমত, বকেয়া অর্থ এককালীন মেটাতে চাইলে WBSEDCL-এর পোর্টাল থেকে সরাসরি বিল ডাউনলোড করে বর্তমান পদ্ধতিতেই টাকা জমা দেওয়া যাবে। অন্যদিকে, এককালীন অর্থ মেটানো সম্ভব না হলে তা সর্বোচ্চ ৩০০ দিনের কিস্তিতে পরিশোধ করার সুযোগ থাকছে।
পাশাপাশি স্মার্ট মিটারে রিচার্জ করার পদ্ধতিতেও নির্দিষ্ট নিয়ম, আলাদা স্যাংশন ফরম্যাট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পোস্ট-পেইড থেকে প্রি-পেইড ব্যবস্থায় পুরোপুরি পরিবর্তনের পর, মিটারটি রিচার্জ বা চার্জ করার জন্য দফতরগুলিকে ১০ দিনের অতিরিক্ত সময়সীমা দেওয়া হবে।
একইসঙ্গে সরকারি কাজ যাতে বিদ্যুতের অভাবে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, তার জন্য অর্থ দফতরের এই নির্দেশিকায় বেশ কিছু জরুরি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কাজ চলাকালীন মিটারের টাকা ফুরিয়ে গেলেও সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেগেটিভ ব্যালেন্সের সুবিধা পাওয়া যাবে। এর ফলে তৎক্ষণাৎ কোনওভাবেই পরিষেবা ব্যাহত হবে না। একইসঙ্গে প্রি-পেইড অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স না থাকলেও কোনও সরকারি ছুটির দিনে বা অফিসের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে দফতরের বিদ্যুৎ সংযোগ কোনওমতেই বিচ্ছিন্ন করা হবে না।