
কলকাতা: বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি ও NIA এসপি-র মধ্যে যে গোপন বৈঠকের অভিযোগে সরব তৃণমূল। এবার NIA-BJP আঁতাতের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে তৃণমূল। সুপ্রিম কোর্টে মামলা নথিভুক্ত হলে সোমবার মামলার শুনানি হতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ভূপতিনগরে নাড়ুয়াবিলা গ্রামে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাতে প্রাণ যায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি রাজকুমার মান্না-সহ তিন জনের। এই ঘটনার তদন্তভার ২০২৩ সালে হাতে নেয় এনআইএ। গত শনিবার এই মামলারই তদন্ত করতে ভূপতিনগরে যান এনআইএ আধিকারিকরা। এই মামলায় দুই তৃণমূল নেতা বলাই মাইতি, মনোব্রত জানাকে একাধিকবার নোটিস পাঠিয়ে তলব করেছিল এনআইএ। কিন্তু তাঁরা হাজিরা না দেওয়ায় তাঁদের গ্রেফতার করতে যায় এনআইএ। তখনই ঘটে তুলকালামকাণ্ড। এনআইএ কর্তাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন গ্রামের মহিলারা। দুই অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার পথে এনআইএ-এর গাড়ির ওপর হামলারও অভিযোগ ওঠে। গাড়ির কাচ ভেঙে যায়।
কিন্তু বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। প্রথম থেকেই এনআইএ-এর এই অভিযান পরিকল্পিত বলে অভিযোগ তুলছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর শাসক নেতৃত্ব সেই ধারা অব্যাহত রাখে। তৃণমূলের তরফে কুণাল ঘোষ সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তৃণমূলের দাবি, শনিবারের এনআইএ অভিযানের ঠিক আগেই জিতেন্দ্র তিওয়ারি একটি ফ্ল্যাটে এনআইএ-এর এসপি-র সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেন। যে আবাসনের ফ্ল্যাটে বৈঠক করেন, তার রেজিস্ট্রার খাতার নথিও প্রামাণ্য হিসাবে দেখান। কুণাল দাবি করেন, “NIA-র একজন অফিসারের বাড়িতে গিয়ে বিজেপি-র নেতারা লিস্ট দিয়ে আসছেন। মুখ্যমন্ত্রীও এই কথাই বলছেন।” কুণাল ঘোষের কথায়, এনআইএ-কে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি। তাই ভোটের মুখে পুরনো কেস নিয়ে এজেন্সি নাড়াচাড় করছে।
গোটা বিষয়টিতে জিতেন্দ্র তিওয়ারি অবশ্য দাবি করেছেন, “অভিযোগ ভিত্তিহীন। যা দাবি করছে তৃণমূল, তা যদি প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে ৭ দিনের মধ্যে আইনি পদক্ষেপ করব।” এই পরিস্থিতি NIA-BJP আঁতাত নিয়ে এক প্রবল জলঘোলা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পাশাপাশি দিল্লি নির্বাচন কমিশনেরও দ্বারস্থ তৃণমূল।