
কলকাতা: ভোটে মেলেনি টিকিট। দলের সঙ্গেও ঘোচেনি দূরত্ব। ভোট মিটেছে। পালাবদলের সাক্ষী হয়েছে বাংলা। কিন্তু পার্থ আছেন পার্থতেই। ফের একবার একবার দলের সমালোচনায় মুখর হলেন। একহাত নিলেন আইপ্যাককেও। খানিক আত্মসমালোচনার সুরেই বললেন, “যে পথে চলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে দলটা বড় করেছিলাম এখন আমরা হয়তো সেই পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছি। বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলকেও আমরা ধরতে পারিনি। আমরা অযথা লোককে কালি লাগিয়ে নিজেরা সাদা থাকার চেষ্টা করেছি। মানুষ এটা ভালোভাবে নেয়নি।”
এবারের ভোটে একশোর নিচে নেমে গিয়েছে তৃণমূলের আসন সংখ্যা। তাতেই তোলপাড় প্রাক্তন শাসকের অন্দরমহল। নাড়া দিয়েছে পার্থকেও। মনের কোণে কষ্টের পাহাড় ক্রমেই বড় হচ্ছে তাও বললেন অকপটে। দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বলতে গিয়ে অকপটেই বললেন, বিজেপি ভুল করলে আমাদের ভবিষ্যত আছে। ওরা ভুল না করলে আমাদের ভবিষ্যত নেই। এরপরই খানিক সাবধানীবাণী দিয়ে বললেন, “এখনও সময় আছে দেওয়ালের লেখা পড়ে নেওয়ার। যে কারণে মানুষ আমাগের পরিত্যাগ করেছে তা মেনে নিয়ে সংশোধনেরও সময় আছে।”
এরপরই কারও নাম না করেও দলের উপরতলার সমালোচনাও করলেন অকপটে। খানিক খোঁচা দিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বললেন, “দিদিই তো রাধুনি। তাঁর প্রচ্ছন্নে যে সহ-রাঁধুনি হওয়ার চেষ্টা করেছে, সে রেসিপি অন্যরকমভাবে করেছে। অন্য প্ল্যাটফর্মে দল পরিচালনা করেছে। কোথাও পরামর্শদাতা খুঁজছেন, কোথাও নিজে পরামর্শদাতা হয়েছে। শেষে মানুষের সঙ্গে জন বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে।” তাহলে কী অভিষেকেই দায়ী করছেন পার্থ? প্রশ্ন শুনেই আবার হাসিমুখে বললেন, “শুধু কী অভিষেকই দায়ী? সবাই ওকে কেন দোষ দেয়? আইপ্যাক মাথা খেয়ে গেল! তারা এখন কোথায় গেল? যাঁকে অভিষেককে দায়িত্ব দিয়েছিল আইপ্যাক তাঁদের যে কর্ণধার সে অভিষেক সম্পর্কে বলছে টবে জবা ফুল। কথা বড় কথা বলুন তো! আমার থেকে ও পরামর্শ নিতে এলে বলব নিজের উপরে জোর রাখুন। দিদি নিজের উপর জোর রেখে লড়াই করেছে। মার খেয়েও কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। একা লড়াইয়ে জেতা যায় না। মা দুর্গা তো তবে ২ হাতেই জিততে পারত। ১০ হাত তো প্রয়োজন হত না।”