Kunal Ghosh: কুণালের বিরুদ্ধে বিধানসভায় প্রিভিলেজ মোশন, বেলেঘাটার বিধায়ক বললেন…

Privilege Motion Against Kunal Ghosh: সাংবাদিক বৈঠকে প্রিভিলেজ মোশন-সহ একাধিক ইস্যুতে সরব হন কুণাল। বলেন, "আমি বুঝতে পারছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সৈনিক কুণাল ঘোষ কীভাবে ওঁদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। আমাকে বলতে না দেওয়া, আমার কণ্ঠরোধের চেষ্টা, প্রতিবাদ করলে মার্শাল দিয়ে চ্যাংদোলা করে বাইরে বের করে দেওয়া, কথায় কথায় সমালোচনা। শেষ পর্যন্ত প্রিভিলেজ।”

Kunal Ghosh: কুণালের বিরুদ্ধে বিধানসভায় প্রিভিলেজ মোশন, বেলেঘাটার বিধায়ক বললেন...
কুণাল ঘোষImage Credit source: Social Media

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Jul 24, 2026 | 9:38 PM

প্রদীপ্তকান্তি ঘোষ এবং সৌরভ গুহ

কলকাতা: ২ দিন আগেই বিধানসভার অধিবেশন থেকে একদিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছিল তাঁকে। এবার বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে বিধানসভায় প্রিভিলেজ মোশন আনলেন পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। শুক্রবার এই নিয়ে বিধানসভায় কুণালকে তাঁর বক্তব্য রাখার সুযোগ দেন স্পিকার রথীন্দ্র বসু। তবে পরে এই নিয়ে সরব হন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক। শুধু তাঁর বিরুদ্ধে প্রিভিলেজ মোশন নিয়ে নয়, বিধানসভায় কেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন কুণাল।

বুধবার বিধানসভায় কুণালের আচরণ নিয়ে বেলেঘাটার বিধায়কের বিরুদ্ধে এদিন প্রিভিলেজ নোটিস আনেন শঙ্কর ঘোষ। পরিষদীয় মন্ত্রীর বক্তব্য, কুণাল ঘোষ স্পিকারের চেয়ারের মর্যাদা রাখেননি। অমর্যাদা করেছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব আনলেন তিনি।

তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস নিয়ে কুণালকে বলার সুযোগ দেন স্পিকার। তখন বিজেপি বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ বলেন, “আগে আমাদের বিরুদ্ধে প্রিভিলেজ নোটিস বা স্বাধিকার ভঙ্গের সময় বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু আজ স্পিকার স্যার কুণাল ঘোষকে বলতে দিলেন। এটাই গণতন্ত্র।”

স্পিকার তাঁকে বলার সুযোগ দেওয়ার পর কুণাল বলেন, “আমি আদৌ সভা বা অধ্যক্ষকে অসম্মান করিনি। অধ্যক্ষ কোনও কারণে দুঃখ পেলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমার প্রতিবাদ আমাকে বলতে না দেওয়ার বিরুদ্ধে। অধ্যক্ষ নিযুক্ত বিরোধী মুখ্যসচেতকের কাজের আমি প্রতিবাদ করি। আমাকে বলতে দেওয়া হবে না, আবার আমার উপরই দোষ চাপিয়ে আক্রমণ হবে, এটা কী করে হতে পারে?” পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুণাল লেখেন, অধ্যক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করে পরে রুলিং দেবেন। বিরোধী মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনও সমস্যা নেই জানিয়ে কুণাল আরও বলেন, “আমাদের বিরোধীদের মধ্যে একটা সমস্যা হচ্ছে। বলতে দেওয়া হয়নি। আখরুজ্জামানের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সমস্যা নেই। আমার নাম কেটে দিচ্ছে। তাই আমি সেদিন প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। স্পিকারকে অসম্মান করার ইচ্ছা নেই।”

তখন শঙ্কর ঘোষ বলেন, “আপনাদের নিজেদের সমস্যা আপনদের দূর করতে হবে। তার বিস্তৃত ব্যাখ্যা দেওয়ার দরকার নেই। বিরোধী চিফ হুইপ যে লিস্ট দেন, সেটাই হয়।” স্পিকারও বলেন, “আপনাদের সমস্যা আপনারা মেটান।”

পরে সাংবাদিক বৈঠকে প্রিভিলেজ মোশন-সহ একাধিক ইস্যুতে সরব হন কুণাল। বলেন, “আমি বুঝতে পারছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সৈনিক কুণাল ঘোষ কীভাবে ওঁদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। আমাকে বলতে না দেওয়া, আমার কণ্ঠরোধের চেষ্টা, প্রতিবাদ করলে মার্শাল দিয়ে চ্যাংদোলা করে বাইরে বের করে দেওয়া, কথায় কথায় সমালোচনা। শেষ পর্যন্ত প্রিভিলেজ।”

এরপরই কুণাল বলেন, “ওঁরা কী চান? আমার বিধায়ক পদ খারিজ করে দেবেন? নিয়ে নিন। বিধানসভা ভোটে দাঁড়িয়ে জেতা যায়, আমার দেখানো হয়ে গিয়েছে, দেখা হয়ে গিয়েছে। যদি ব্যাকডোর দিয়ে প্রিভিলেজ মোশন দিয়ে আমার বিধায়ক পদ কাড়তে চান, কেড়ে নিন। কিন্তু, আমাকে বলতে দেওয়া হচ্ছে না। এটা আমি বলছি, বলব। আমি পরিষ্কার বলছি, আমাকে কোনও বিতর্কে বলতে দেওয়া হচ্ছে না।”

সেবাশ্রয় নিয়ে বিধানসভায় আলোচনায় আপত্তি কুণালের-

নাম না করে অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়েও বিধানসভায় আলোচনার বিপক্ষে কুণাল। বলেন, “আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না, বিধানসভায় এরা টার্গেট করছে ধরা যাক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিধানসভার তো একটা রীতিনীতি আছে। যে ব্যক্তি এখানকার সদস্য নন, যিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন না। তাঁকে এভাবে টার্গেট করা যায় না। আজকে বলা হয়েছে, সেবাশ্রয় নিয়ে এই এই অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে পরিষদীয় মন্ত্রী দাঁড়ালেন। তিনি বললেন, কালকে এটা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিবৃতি দেবেন। সেবাশ্রয় নিয়ে আমার স্পষ্ট ধারণা নেই। কিন্তু, আমি এটুকু বুঝি, একজনকে টার্গেট করে এটা হচ্ছে। যিনি বিধানসভায় নেই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাচ্ছেন না। তাহলে তাঁকে জবাবি ভাষণ দিতে দেওয়া হোক। বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হোক।”

এরপরই কুণাল বলেন, “তিনি তো ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। লোকসভায় তো আপনাদের সাংসদ রয়েছে। আপনাদের যদি সেবাশ্রয় নিয়ে প্রশ্ন থাকে, লোকসভায় করুন। সেখানে অভিষেক রয়েছে। যিনি এখানে নেই, তাঁকে আপনারা টার্গেট করে বিঁধছেন।”

Follow Us