
কলকাতা: ক্লাবের দুর্গাপুজোর খ্যাতি বিশ্বজোড়ে। বরাবরই এই ক্লাবের সঙ্গে জুড়ে ছিল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নাম। জুড়েছে ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের নামও। প্রধান দুই উদ্যোক্তার নদ্য়ে এখন পুলিশের হেফাজতে। অন্যজনকেও ডেকে পাঠিয়েছে পুলিশ। গিয়েছে প্রতাপ। আর তারপরেই দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম নামজাদা সুরুচি সংঘে আছড়ে পড়ল জনরোষ। তালা ভেঙে ভাঙচুর উত্তেজিত জনতার। ক্লাবের ভিতরে বৈভবের একেবারে ঘনঘটা। কলেজের পর ক্লাবে ভিতরেও দেখা মিলল বিলাসবহুল খাট। এদিক ওদিকে পড়ে রইছে আইফোন, আইপ্যাডের প্যাকেট। দেখা মিল প্রচুর দামি দামি শাড়ির।
যে ক্লাবে এই কয়েক মাস আগেই কয়েক কিলোমিটার লম্বা লাইন দিয়ে দুর্গা ঠাকুর দেখেছে মানুষ, দূর দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন দর্শনার্থীরা সেই ক্লাবকেই ঘিরেই এবার ক্ষোভের বিস্ফোরণ। এলাকার এক মহিলা বলছেন, নিচে দেখে মনে হবে ক্লাব ঘর। আর উপরে উঠলেই অবাক হয়ে যাবেন। ওরা সাধারণ মানুষকে অত্য়াচার করছে, আর এখানে মধুচন্দ্রিমা করছে। আমরা কোনওদিন এই ঘরের খোঁজই পাইনি। পাশে দাঁড়িয়ে আর এক মহিলা বললেন, পাড়ার লোক হওয়ার পরেও এই ক্লাবে ঢোকার অনুমতি ছিল না। আর এক মহিলার অভিযোগ, এই রুম দীর্ঘদিন থেকে ব্যবহার হয়েছে। এসিও ছিল। সব খুলে নিয়েছে।
অন্যদিকে ক্লাবের ভিতরে আগের পুরসভা নির্বাচন সংক্রান্ত বেশ কিছু নথিপত্রেরও দেখা মিলেছে। দেখা মিলেছে পোলিং এজেন্টের নির্দেশিকা সংক্রান্ত তথ্যের। তৃণমূলের তরফে পোলিং এজেন্টেদের যে সমস্ত তথ্য দেওয়া হয়েছিল সেরকম অনেক কিছুরই দেখা মিলেছে। পাশাপাশি ভোটার লিস্টেরও দেখা মিলেছে। অভিনেতা হওয়ার জন্য, সিনেপাড়ায় কাজের জন্য বেশ কিছু আবেদনকারীর বায়োডেটারও দেখা মিলেছে। এই সব তথ্য ক্লাবের ভিতরে এতদিন কী করছিল সেই প্রশ্ন উঠছে।