
কলকাতা: বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর ১০০ দিন কেটেছে শুভেন্দু-সরকারের। নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে পদক্ষেপ করেছে। এই অবস্থায় কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বললেন, “শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হতেই বাংলায় বদল এসেছে। উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ।”
গার্ডেনরিচে শিপ বিল্ডার্সের ৫টি ইউনিটের শিলান্যাস উপলক্ষে রবিবার কলকাতায় আসেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ভূমি পুজো ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ছিলেন। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দুর প্রশংসা করেন রাজনাথ। তিনি বলেন, “সব ক্ষেত্রেই বাংলা নতুন করে জেগে উঠছে। বাংলার হাওয়ায় এখন নতুন গন্ধ। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হতেই বাংলায় বদল এসেছে। উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। বিকাশে লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।”
উদ্দেশ্য সৎ হলে উন্নয়ন কেউ আটকাতে পারবে না বলে মন্তব্য করে তাঁর সংযোজন, “আগে বাংলা থেকে শিল্প বন্ধের খবর মিলত। বদলের বাংলা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। এখন সময় এসেছে, ভারতের বিকাশযাত্রাকে বাংলা এক নতুন গতি দিক।” বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সবসময় সহযোগিতা করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিপ বিল্ডার্সের অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “সমুদ্র সুরক্ষায় শক্তি বেড়েছে ভারতের। স্বদেশী অস্ত্রে এখন শক্তিশালী প্রতিরক্ষামন্ত্রক। আত্মনির্ভরতার প্রমাণ মিলেছে অপারেশন সিঁদুরে।” বিশ্বজুড়ে সমুদ্র বাণিজ্য বেড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বাংলায় বিনিয়োগের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE)-র মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে মোট প্রায় ৩,৪০৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। GRSE-র ‘নবরত্ন’ মর্যাদা পাওয়াকে বাংলার জন্য বড় গর্বের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
বাংলায় শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, জমি, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিকাঠামো ও কাঁচামাল—সবই বাংলায় রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পায়নে গতি বাড়ানোর উপর জোর দিতে হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করলে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসবে বলে বার্তা দেন। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলেও জানান রাজনাথ।
এদিন অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেড (YIL)-র ভূমিকারও প্রশংসা করেন রাজনাথ। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও ম্যানুফ্যাকচারিং সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে YIL। এরপরই YIL-কে পরশপাথরের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। বলেন, “আমাদের এখানে পরশপাথরের কল্পনা করা হয়। পরশপাথর এমন জিনিস, যে ধাতুকে তা ছুঁয়ে দেয়, সেই ধাতু সোনা হয়ে যায়। আপনারা শুনেছেন হয়তো। YIL আমাদের কাছে পরশপাথর। আপনাদের সংস্পর্শে যে ধাতু চলে আসে, তা সোনার চেয়ে কম হয় না।”
এদিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভারত এখন ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ থেকে ‘মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’ হচ্ছে। শুধু দেশের চাহিদা পূরণ নয়, আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য জাহাজ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করে রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে। উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক—দুই বাজারেই প্রতিযোগিতামূলক দামে উন্নতমানের পণ্য সরবরাহের উপর জোর দেওয়ার কথা বলেন।